বাগেরহাটে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি হামলা
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৬
বাগেরহাটে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আওয়ামী লীগের ৯ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জের ধরে আওয়ামী লীগের কর্মীরা হামলা চালিয়ে বিএনপির পাঁচ সমর্থকের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। রবিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুকোড়ামারা গ্রামে দফায় দফায় এই হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এই হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের দুটি মোটর সাইকেল ও একটি চায়ের দোকান পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও সোমবার ভোর রাতে পুলিশ প্রত্যাহার করা হয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এলাকায় আতংক বিরাজ করছে।
হামলায় আহতরা হলেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুকুল সরদার (৩৫), উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ুন শেখ (৪০), বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য সেকেন্দার মল্লি¬ক (৫০), ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল খান (২৯) ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জিহাদ জমাদ্দার (২৮), মোখলেস ফকির (৩৩), আকবর হোসেন (২৪), শিহাব জমাদ্দার (১৭) ও ইস্রাফিল (২২)। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় তিন জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মুকুল সরদার দাবি করেন, বিএনপি-জামায়াতের কথিত ‘সংগ্রাম কমিটি’র ক্যাডাররা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের এলাকাছাড়া করতে এই হামলা চালায়। কুকোড়ামারা গ্রামের বিএনপি সমর্থক মিজানুর রহমান হিরু ও হাফিজুল মাঝি অভিযোগ করেন, এ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপি সমর্থকদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিএনপি সমর্থক একরাম ও আওয়ামী লীগ সমর্থক হুমায়ুনের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় কথা কাটাকাটির জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুকুল সরদারসহ অন্যদের কুপিয়ে জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা মুকুলের মোটর সাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়।
পরে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সংগঠিত হয়ে বিএনপি সমর্থকদের চারটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুঠপাট করে। এ সময় তারা কামরান মাঝি নামে এক ভাড়ার মোটর সাইকেল চালকের মোটর সাইকেল এবং একটি চায়ের দোকান পুড়িয়ে দেয়। তবে তাদের হামলায় বিএনপি বা জামায়াতের কোন নেতাকর্মী আহত হননি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল কবীর চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় থানায় এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।