ফ্রান্সে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা
কর্মসূচির নিন্দা ওঁলাদের
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৪১
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া ওলাদ তার দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে ফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, ফ্রান্সের লাখ লাখ মানুষের ফোনে আড়িপাতার ঘটনাটি অগ্রহণযোগ্য। ওলাদের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মিত্রদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের আচরণ মেনে নেয়া যায় না। এটি ফ্রান্সের নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ। ওলাদ ওবামার কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
লে মনডে পত্রিকায় প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই নেতা এ ধরনের গোয়েন্দা তত্পরতার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করেন এবং তারা একমত হন যে গোয়েন্দা কার্যক্রমের বিষয়টি দুটি দেশ যৌথভাবে তদন্ত করবে। দুই নেতা গুরুত্বারোপ করেন, নজরদারির কাজ প্রয়োজনে একটি দ্বি-পাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে। এ ব্যাপারে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা একসাথে কাজ করবে।
এদিকে গোয়েন্দা গিরির এই তথ্য ফাঁস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ফ্রান্স সফরে ছায়া ফেলতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সেখানে পশ্চিমা মিত্রদের সাথে তার সিরিয়ার যুদ্ধের ব্যাপারে বৈঠকের কথা রয়েছে। গত সোমবার কেরি প্যারিসে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কর্মসূচির ব্যাপারে ফ্রান্সের সাথে আলোচনা করবে।
লে মনডে এবং জার্মানির দার স্পাইজেল পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) ফ্রান্সে লাখ লাখ ফোন কল রেকর্ড করেছে এবং মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফেলিপ কালডেরনের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্য থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৩০ দিনে ফ্রান্সের ৭০ লাখ মানুষের ফোন কল রেকর্ড করে। ্উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে জার্মানির দের স্পাইজেল ও ব্রিটেনের দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্যেরভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কর্মসূচির ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সেদেশে এনএসএ’র কর্মসূচির ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে ফ্রান্স।