পদ্মার ভাঙনে ঝুঁকির মুখে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ

রাজশাহীতে পদ্মার বামতীরে ভাঙ্গন চলছেই। প্রায় দুই মাস ধরে নগরীর পশ্চিমে পবা উপজেলার সোনাইকান্দি, নবগঙ্গা ৫ নং আই বাঁধ, বুলনপুর ৩ নং আই বাঁধ এলাকা ধীরে ধীরে পদ্মার গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এলাকাবাসী। এছাড়া ঝুঁকির মুখে রয়েছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধও। পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা সরেজমিনে দেখা গেছে, পবার বেড়পাড়া থেকে সোনাইকান্দি হয়ে নবগঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গনের মহোত্সব চলছে। প্রায় দুই মাস ধরে চলছে এই ভাঙ্গন। সমপ্রতি পদ্মায় পানির প্রবাহ কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আবারো বেড়েছে ভাঙ্গনের তীব্রতা। ইতোমধ্যে ভাঙ্গনে ওই এলাকার কয়েকশ’ বিঘা জমি, উঠতি ফসল ও বিভিন্ন ফলের বাগান এবং বসতবাড়ি পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়েছে। চলমান ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে নবগঙ্গা ও বুলনপুরের আই বাঁধ দুইটি রক্ষা করা যাবে না। আই বাঁধ দু’টি না থাকলে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধও হুমকিতে পড়বে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও তা প্রতিরোধে কোনো স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে এলাকার শতশত মানুষ ভিটে-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন পাশ্ববর্তী বাঁধ কিবাং উঁচু জায়গায়। পর্যাপ্ত সরকারী সহায়তা না থাকায় এক রকম মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। এদিকে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা সমপ্রতি ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঘোড়াঘাটে অসময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, অসময়ে বন্যায় ঘোড়াঘাট উপজেলার করতোয়া নদীর দু’তীরের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির ভূট্টা, মরিচসহ শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হঠাত্ করেই গত সোম ও মঙ্গলবারের টানা বৃষ্টি পাতে নদীর দু’কূল উপচে গিয়ে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে নদীর তীরবর্তী ঘোড়াঘাট উপজেলার ২২ টি গ্রাম ও রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাসহ গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার প্রায় সমপরিমাণ গ্রামের কৃষকদের একই ক্ষতিসাধন হয়। এ সব চরাঞ্চলের কৃষক আগাম ভূট্টা, মরিচ চাষ করেছিল। এ ছাড়াও শীতকালীন সবজি মুলা, পটল, করলা, ঝিঙ্গা সহ নানা প্রকার ফসলের ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে চর এলাকার এসব জমিতে। মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে উপজেলার শালিকাদহ , শ্রীচন্দ্রপুর, কুলানন্দপুর, ডাঙ্গা, মারুপাড়া, ভেলামারী, সাতপাড়া, ভর্ণাপাড়া, গুয়াগাছিসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় এ ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য চোখে পড়ে। চরের জমিগুলো ২-৩ ফুট পানির নীচে। কিছু এলাকায় পানি শুকাতে শুরু করলেও তা খুব ধীর গতিতে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, অসময়ে প্রবল বর্ষনে এ রকম বন্যা হবে তা কল্পনার বাইরে এবং যা ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়।