ইলিশ শিকার নিষিদ্ধে অভিযান জেল আতঙ্কে জেলেরা

ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকার ১৩ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করে। আজই শেষ হচ্ছে নিষিদ্ধ সময়ের মেয়াদ। এই আদেশের ধারাবাহিকতায় ইলিশ রক্ষায় নিয়োজিত টাস্কফোর্সের তত্পরতা ছিল লক্ষণীয়। দেশব্যাপী চলমান অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন অনেক জেলে। জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে অনেকের। অভিযোগ উঠেছে, এ সময়ে প্রশাসনিক তত্পরতার পাশাপাশি একশ্রেণীর দুষ্কৃতকারী অসহায় জেলে পল্লিতে হামলা করে নাশকতার মাধ্যমে অনেক জেলের জাল ও নৌকা নষ্ট করে দিয়েছে। অনেক জেলেকে ধরে পুলিশে দিয়ে অর্থ বাণিজ্য করেছে। এতে ইলিশ রক্ষার উদ্যোগ অনেকটা সফল হলেও জেলেদের প্রতি হয়রানি ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়া যায়নি। ফলে অভিযান শেষ হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জেলেরা। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে উপজেলা ট্রাস্কফোর্স ৪৩ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৮২ জেলেকে আটক করে। ইউএনও একেএম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন মত্স্য কর্মকর্তা মীর ফিরোজ আহমেদ, মত্স্য সমপ্রসারণ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আটককৃত জেলেদের ২ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করেন ও অবৈধ কারেন্ট জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বেতাগীতে ইলিশ শিকার বন্ধে সরকারি অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করার অপরাধে সাধারণ জেলেদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। সম্প্রতি এ জন্য ২ লক্ষাধিক টাকার জাল ও নৌকা পুড়ে ফেলে হত্যার হুমকি দিয়েছে জেলে নামধারী সন্ত্রাসীরা। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মত্স্য কর্মকর্তাকেও অভিযান বন্ধে হুমকি দেয়া হয়েছে। এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীর তীরে গভীর রাতে জালসহ পাওয়ায় নূরুল ইসলাম ফরাজীর স্ত্রী তাছলিমা বেগমকে আটক করে এক বছরের জেল দেয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে উপজেলার বিষখালী নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জেলে নামধারী আব্দুস সালামের জাল আটক করে ২ হাজার টাকা জরিমানা ও জাল পুড়িয়ে দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুস সালাম ও সন্ত্রাসী নূরুল ইসলাম ফরাজী একই গ্রামের বাসিন্দা জেলে সোহরাফ ও ফারুক হোসেনসহ জেলেদের ২ লক্ষাধিক টাকার জাল ও নৌকা পুড়ে ফেলে এবং সরকারি অভিযান পরিচালনায় পুনরায় সহযোগিতা করলে হত্যা করার হুমকি দেয় বলে তারা জানায়। সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, পাবনার সুজানগরের পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে আধা মণ ইলিশ মাছ এবং ১৫টি ইলিশ ধরা কারেন্ট জাল আটক করা হয়।