দলীয় সাফল্যেই চোখ সাকিবের
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৬
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় আগেই ছাড়িয়ে গেছেন স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে। এবার দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ উইকেট দখলের তালিকাতেও উঠে এলেন এক নম্বরে। এরপরও গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নির্বিকার তিনি। কেননা ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলীয় লক্ষ্যকেই এগিয়ে রাখলেন সাকিব আল হাসান।
এতোদিন দেশের মাটিতে ৬৬টি উইকেট নিয়ে তালিকায় প্রথম স্থানটি দীর্ঘকাল ধরে রেখেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় মোহাম্মদ রফিক। গতকাল তিন উইকেট নিয়ে পূর্বসূরিকে টপকে গেলেন সাকিব। প্রথমে শুরু করেন ওপেনার হ্যামিশ রাদারফোর্ডকে দিয়ে। এরপর লাঞ্চের ঠিক আগের বলে তুলে নেন আরেক ওপেনার পিটার ফুলটনের উইকেট। এই উইকেটটি দিয়েই পার হলেন নতুন নজিরটি গড়লেন তিনি।
শুধু রেকর্ডই নয় দিনভর আলোচনা চললো তার এই উইকেটটি নিয়েই। বল অফস্ট্যাম্পের বাইরে পড়ে সোজা বের হয়ে যাওয়ার পথেই বাঁক খেয়ে ঢুকলো মিডল স্ট্যাম্পের দিকে। ব্যাটসম্যান ফুলটন না বুঝে পা সামনে বাড়িয়ে দেয়ার সাথে সাথেই আবেদন। আম্পায়ারও সাড়া দিলেন সেই আবেদনে। এই বলটির প্রসঙ্গে সাকিব নির্বিকারভাবেই বলেন, ‘কোন প্ল্যান করা ছিল না। বলটা একটু ভিতরেও এসেছে, আর ওর বুঝতেও সমস্যা হয়েছে। বল যে কখন কি হয় আমি নিজেও জানি না।’
দিনের তিনটি উইকেটই নিয়েছেন সাকিব। শেষ উইকেটটি ছিল ব্ল্যাক ক্যাপ অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। ডিপ স্কয়ার লেগে অসাধারণ এক ক্যাচ নেন রুবেল হোসেন। সব মিলিয়ে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের সন্তোষ প্রকাশ করে সাকিব বলেন, ‘নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আজ বেশ আনন্দিত। মোটামুটি ভাল বল করতে পেরেছি।’
তবে নিজেকে ছাড়িয়েও দলগত পারফরম্যান্স নিয়েই বেশি কথা বললেন সাকিব, ‘শুধু আমি করলেই হবে না; পুরো দলের সবাইকেই পারফর্ম করতে হবে। (সোহাগ) গাজী, রাজ ভাই আর পেসাররাও যদি একটা দুটো উইকেট এনে দিতে পারে তাহলে সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা প্লাস পয়েন্ট হবে।’
দলের পেস আক্রমণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ আমার মতে আমাদের পেস বোলাররা আজ অনেক ভাল বল করেছে। বিশেষ করে আমি যদি প্রথম টেস্টের সাথে তুলনা করি তাহলে, তাদের পারফরম্যান্স অনেক ভাল ছিল।’
এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে মার্শাল আইয়ুব ৪০০ রানের লক্ষ্যের কথা বললেও ২৮২ রানেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ। সেই ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘ব্যাটসম্যানতো খুব বেশি ছিল না। নাসির (হোসেন) আর মুশফিক ভাই ছিল। মুশফিক ভাই আউট হওয়ার পরই নাসির আউট হল। এরপর লোয়ার অর্ডার চলে আসায় খুব বেশি রান করা সম্ভব হয় নাই। এই উইকেটে ৩০০-৩৫০ রান হলে ভাল হত।’
আগের দিনের বৃষ্টিতে উইকেটের কোন পরিবর্তন এসেছে কি না বা বোলাররা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন কি? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে অলরাউন্ডারটি বলেন,‘বলাটা মুশকিল। আমার কাছে মনে হয় না যে উইকেটে খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে। আমাদের ব্যাটসম্যান ছিল দুজন কি তিনজন। আর ওদের দুজন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছে (প্রথম সেশনে)। আর সেশনটাও আজ প্রায় আড়াই ঘণ্টা ছিল।’