কূটনীতিকদের তাগিদ
সংলাপের সঠিক সময় এখন, এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৩
দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রভাবশালী দেশগুলো। পাশাপাশি আসন্ন সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা ও সংলাপের মধ্যে জোর তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রভাবশালী বিদেশি কূটনীতিকরা। গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় হাইকমিশনার ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত একত্রে বৈঠক করেন। এছাড়া বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, অষ্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ও কানাডা হাইকমিশনও পৃথকভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। বেশ কয়েকজন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত এক মধ্যাহ্ন ভোজেও মিলিত হন।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা গতকাল সকালে রূপসী বাংলা হোটেলে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে গত কয়েকদিনে দুই দল যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আমরা খুবই আশাবাদী। দুই দল সংঘাত এড়ানোর পথ খুঁজছে। আমরা চাই উভয় পক্ষ একটি গঠনমূলক সংলাপের আয়োজন করে নিজেদের দূরত্ব কমিয়ে এনে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটা পথ খুঁজে বের করবে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর বক্তব্য খুবই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। এখনই সংলাপের সঠিক সময়। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। পুরো বিশ্ব বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।
অষ্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রেখে গঠনমূলক সংলাপ করে এগিয়ে যাবার জন্য বর্তমান সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে সবাইকে। বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অগ্রসরমান সম্পর্ককে অষ্ট্রেলিয়া খুবই গুরুত্ব দেয়। সেই সঙ্গে আরো অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা ও ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ গতকাল সকালে এক একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। ভারতীয় হাইকমিশনারের বাসভবনে সকাল দশটা থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী এ বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে পর্যবেক্ষক মহল ধারণা করছে। এদিকে, রূপসী বাংলা হোটেলে পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লি¬উ মজীনা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্য আমি শুনেছি। তাদের বক্তব্যে সংলাপের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগাতে রাজনীতিবিদদেরই ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা বেশ আগে থেকেই সংলাপের তাগিদ দিয়ে আসছি। গ্রহণযোগ্য যে কোনো সমঝোতা অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনকে ত্বরান্বিত করবে।’
এ সময় নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গেরবান ডি জং বলেন, ‘সংলাপ, সংলাপ এবং সংলাপ। নেদারল্যান্ড সব সময়ই বিশ্বাস করে, রাজনীতিবিদরা সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য কোনো সমাধান পাবেন।’
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত গতকাল এক মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেন স্থানীয় একটি হোটেলে। সফররত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উপ-মহাপরিচালক গিলবার্ট হুংবোর সম্মানে আয়োজিত এই মধ্যাহ্ন ভোজে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া, স্পেনসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ যোগ দেন।
বাংলাদেশে কানাডা হাইকমিশনের মুখপাত্র জানান, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একে অপরকে আস্থায় নিয়ে সংলাপে বসতে হবে। এজন্য আমরা সব দলকে আহ্বান জানাই।