পথে-ঘাটে

- দুই বিবি আমাগোরে পাগল কইরা ছাড়বো। - দুই জন দুই মেরুতে চললে তো পাগল হইতেই হইবো। সকাল পৌঁনে আটটা। ছোট পত্রিকা বিক্রির একটি স্ট্যান্ডকে ঘিরে বেশ কয়েকজন। পোশাক-আশাক দেখে বোঝা যায় সকালের হাঁটা শেষ হয়েছে। প্রত্যেকেই পঞ্চাশোর্ধ্ব। ফিরতি পথে আলোচনায় মশগুল। এক এক জন একাধিক পত্রিকা নিচ্ছেন। চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন এক ঝলক। কেউ সরাসরি প্রধান শিরোনাম, পেছনের পাতা, তারপর সম্পাদকীয়। আশপাশে কোন খেয়াল নেই। পায়ের শব্দ আর কণ্ঠস্বরেই যেন চিনে ফেলছেন একে অন্যকে। কারণ চোখ পত্রিকার পাতায়। কিন্তু ঠোঁট থেমে নেই। আয়েশ করে করে কথা বলছেন এক একজন। - উনি আবার তত্ত্বাবধায়কের লোক চাইছেন। - শুধু তত্ত্বাবধায়ক না সিনিয়র হইতে হইবো। - কে কবে মইরা ভূত হইয়া গেছে ঠিক নাই। আবার সিনিয়র লইবো। - কেউ মরছে, কেউ নব্বই পার করছে। এরা আবার দেশ চালাইবো? - এটা একটা ভাওতাবাজি। হইবো না হেইডা হেও জানে। - রাতে ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া প্যাঁচ বাঁধানোর স্বপ্ন দেখছে। আর সেই সহজ প্যাঁচ জাতীর সামনে তুইলা ধরছে। আমরা যেন তার স্বপ্নের প্রস্তাবে বিভোর হইয়া থাকি। - প্রস্তাব দেওনের সময় কোন কিছু বিচার বিবেচনাও করে নাই। - হ। গেল তত্ত্বাবধায়ক থোন আনলে হইতো না। ঐ ছিয়ান্নবই থোন আনতে হইবো। - ছিয়ান্নবই থোন এখন পর্যন্ত কত দিন হয় হেইডা তার হিসাব আছে? - নিজে তো রানীর মত থাকে এই জন্য অন্যদের কথা কইতে পারে না। - অন্যরা যে কালো ধোয়া আর ভেজাল তেল খাইয়া অর্ধেক জীবন নষ্ট কইরা ফেলছে হেইডা কি কইরা জানবো? - এহন দেহা যাক কবর থোন তুইলা আইনা উনি কোন পাঁচজনের নাম দেন। - তিনি ভাল কইরাই জানেন যে কারো নাম দেওন লাগতো না। এর লইগা এই প্রস্তাব দিছে। - হ। সামনে কত দিন আছে। আরো কত প্রস্তাব দিব। খালি অপেক্ষা করেন। বেশ জমে ছিল। বিরতি ছাড়া চলছিল। কিন্তু বৃষ্টি তাদের কথার শত্রু হয়ে হানা দিল। সময় দিল না একবিন্দু। আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। শুরু হলো ছুটোছুটি।