খালেদা জিয়ার প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। তবে এ নিয়ে সংলাপ করবে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিরোধী নেতার নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে সরকারের মনোভাব জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আলোচনার সুযোগ সবসময়ই ছিল, এখনো আছে। এটি বন্ধ হয়নি। সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকার সবসময় আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষেত্রে দলবাজির সরকারের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই দলীয় প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাব বাস্তবায়ন বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি (বিরোধী দলীয় নেত্রী) এ সরকারকেই তার প্রস্তাব সংসদে পাস করানোর দাবি করেছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা প্রস্তাব করেছেন, ২০ জন সাবেক উপদেষ্টার মধ্যে পাঁচজন বিরোধীদল মনোনয়ন দেবে আর সরকারপক্ষ পাঁচজন মনোনয়ন দেবে। সে কারণে ১০ জন আর নিরপেক্ষ নন। দলীয় ব্যক্তি হয়ে যাচ্ছেন। অর্থাত্ বেগম জিয়ার নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব থাকছে না। এতে নির্বাচন ঝুলে যাবে এবং সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। তিনি মত প্রকাশ করেন, খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে যত্ন ছিল না। কারণ ২০ জন উপদেষ্টার মধ্যে দুইজন দুই দফায় ছিলেন। সে হিসেবে মোট উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৮ জন। এই ১৮ জনের মধ্যে দু’জন ইতিমধ্যে এই দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আর চারজন পরলোক গমন করেছেন। সে হিসেবে অবশিষ্ট থাকে ১২ জন। এই ১২ জনের মধ্যে কয়েকজন শারীরিকভাবে অসুস্থ। তারপর, তারা আদৌ রাজি হবেন কিনা সেটিও নিশ্চিত নয়— তাই বেগম জিয়ার প্রস্তাব দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে হচ্ছে।