গল্প নয় সত্যি
পুলিশের মহানুভবতা!
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৪৭
পেশাগতভাবেই যারা চুরির মতো অপকর্মকে জীবিকা উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন তাদের জন্য অনেকের মনেই হয়তো কোনো স্থান নেই। কিন্তু পেশার বাইরে যারা পরিস্থিতির কারণেও কদাচ চুরি করেন তাদের জন্যও সচরাচর কোনো ছাড় মেলে না। বিশেষ করে আইন আর আইনের মানুষ হয়ে থাকা পুলিশের কাছে যেখানে অপরাধটাই মূখ্য সেখানে চোরের জন্য বাড়তি মহানুভবতা দেখানোর পথেও হাঁটতে চান না কেউ। যদিও কালে কালে ব্যতিক্রমই যেখানে সংবাদের জন্ম দেয় সেখানে এমনই এক ব্যতিক্রমের জন্ম দিয়ে এবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে চাওয়া এক মা ও চুরির দায়ে তাকে শাস্তি দেওয়া এক পুলিশ অফিসার। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফ্লোরিডার এক মা জেসিকা রবলস সম্প্রতি একটি সুপার শপে বিল পরিশোধ না করেই খাবার সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার সময় দোকানের কর্মীদের কাছে ধরা পড়েন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তারের জন্যই সেখানে পুলিশ ডাকা হয়। ঘটনা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পড়ে পুলিশ অফিসার ভিকি থমাসের ওপর। সেখানে যেয়ে নিয়ম অনুযায়ীই জেসিকাকে কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন থমাস। কিন্তু এরপর কৌতুহলবশত তার কাছে এভাবে চুরির কারণ জানতে গিয়েই বেরিয়ে আসে গল্পের অন্য দিক। জেসিকা জানান, ঘরে ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য কোনো খাবার কেনার ব্যবস্থা করতে না পারার কারণেই চুরির পথ বেছে নিতে হয় তাকে। বিষয়টি জানার পরই সেটা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়েছিল থমাসের। তবে তারপরও পুলিশ রেকর্ড ঘাটাঘাটি করে আর জেসিকার পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়ে ঘটনাটির সত্যতা খুঁজে পান থমাস। আর এটা জানার পর এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় না করে জেসিকাকে নিয়ে সুপার শপে ফিরে যান থমাস। আর এরপর নিজের গাঁটের পয়সা দিয়েই তিনি প্রায় ১০০ ডলার সমপরিমাণ খাবার উপকরণ কিনে দেন জেসিকা এবং তার দুই ও পাঁচ বছর বয়সী দুই ছেলের জন্য। এ প্রসঙ্গে পরে এক সাক্ষাত্কারে থমাস জানান, এই খাবার কেনার বিষয়টিতে তার ১০০ ডলার খরচ হলেও এর মূল্য তার কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সমতূল্য। অন্যদিকে থমাস যে এই কাজটি একেবারে বিনা শর্তে করে দিয়েছেন তা নয়। বরং শর্ত হিসেবে তিনি জেসিকাকে জানিয়েছেন যে, জেসিকা যেন তার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পর একইভাবে তার মতো কাউকে সাহায্য করেন।