ড্রোন হামলায় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫৬
পাকিস্তান এবং ইয়েমেনে ড্রোন হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তারা এ হামলা পরিচালনা করে। এখানে আইনের কোন লঙ্ঘন ঘটে না। বরং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে বলা হয়, শুধুমাত্র সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের টার্গেট করেই এ হামলা চালানো হয়। এখানে বেসামরিক লোকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ‘যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইন বহির্ভূতভাবে অনেক বেসামরিক লোক নিহত হচ্ছে’ -এমন প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউস এ বিবৃতি প্রদান করে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি বলেন, আমরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার বিষয়ে যে নিরীহ বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে, আমরা তার সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসন সবসময়ই বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি কাজ করছে ওই প্রতিবেদনগুলোর এমন দাবির তীব্র বিরোধিতা করছি। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে এ হামলার বিষয়ে যাবতীয় তথ্য ও এর আইনগত দিক প্রকাশ করতে হবে। এতে আরো বলা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এ বছরের শুরুতে বলেছিলেন, এ সংক্রান্ত সব ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে তার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। মানবাধিকার সংস্থার ওই প্রতিবেদনে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যকে ড্রোন হামলা ও তার কোন অপব্যবহার হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহবান জানানো হয়েছিল।
কারনি এসব প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, ড্রোন হামলা তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই করছেন। সেইসঙ্গে বেসামরিক মানুষের মারা যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন,আমাদের মূল লক্ষ্য সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করা। কারনি আরো জানান, স্থলবাহিনী কিংবা অন্য অস্ত্র ব্যবহার না করে ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, যে ধরনের হামলায় সবচেয়ে কম বেসামরিক নাগরিক নিহত হবে সে ধরনের হামলাই বেছে নেবে আমেরিকা।