‘ভুল চিকিত্সায়’ প্রসূতির মৃত্যু, চিকিত্সক পলাতক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৩
রাজধানীর ভাটারার একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিত্সায় তাসলিমা বেগম নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ঐ ক্লিনিকের নিরাপত্তা প্রহরী মশিউর রহমানকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনার পর ক্লিনিকের চিকিত্সক পলাতক রয়েছেন।
মৃতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ভাটারার নতুন বাজার এলাকার গৃহবধূ তাসলিমা আক্তার ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাত্ পেটের ব্যথা ওঠায় তাকে মেডিক্যাল চেকআপের জন্য ভাটারার নূরের চালায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিকে নিয়ে যায় তার স্বামী মাসুম। সেখানে ডা. মিলন রোগীকে পরীক্ষা শেষে স্বামী মাসুমকে জানান যে, তাসলিমার গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে। এজন্য তাকে অপারেশন করে মৃত সন্তান বের করতে হবে। অপারেশন ফি বাবদ ক্লিনিকের ঐ চিকিত্সক ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৫ হাজার টাকায় অপারেশনের সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য ক্লিনিকে এক হাজার টাকা জমা দিলে চিকিত্সক রোগীর অপারেশন শুরু করেন। অপারেশন শেষে পেটের সন্তানকে কেটে তার অর্ধেক অংশ বের করা হয়। পরে বাকি অংশ বুধবার সকালে বের করা হবে বলে চিকিত্সক রোগীর স্বামীকে জানান।
মাসুম তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় চলে আসেন। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতের দিকে তাসলিমার রক্তক্ষরণ শুরু হলে মাসুম তাকে বুধবার ভোর ৬ টার দিকে ঐ ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে চিকিত্সক মিলন রোগীকে একটি ইঞ্জেকশন দিয়ে অচেতন করে ফেলেন। পরে রোগীকে ঢাকা মেডিক্যালে সার্জন দেখানোর পরামর্শ দিয়ে ডা. মিলন ও তার ক্লিনিকের নিরাপত্তারক্ষীসহ একটি এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাসলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ডা. মিলন কৌশলে পালিয়ে যান।
ভাটারা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, গৃহবধূ তাসলিমা বেগম ভুল চিকিত্সায় মারা গেছেন এমন অভিযোগে মৃতের ছোট বোন বিউটি বেগম থানায় মামলা করেছেন।