ঘর পেল মালাবতি
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৫
স্কুল থেকে ঝরে পড়া কুঁড়ে ঘরে বসবাসকারী কিশোরী মালাবতি নির্বিগ্নে রাত কাটাতে ঘর পেলো। পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর অসহায় মালাবতির বাস করার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করেছেন কানাডা প্রবাসী প্রকৌশলী আকরামুল ইসলাম খান।
মালাবতির বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আদিবাসী অধ্যুষিত গুড়পিপুলের যোশাই পাড়া গ্রামে। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া জানা মালাবতিকে সংসারের হাল ধরতে হয় ছোট্ট বয়সেই বাবা কোকন শিং মারা যাবার পর। তার মা অসুস্থ থাকায় মাঠের কাজ করতে না পারায় মালাবতির আয়েই চলতে থাকে ২ বোন ও মায়ের সংসার। অসহায়, দুস্থ, শ্রমজীবী কিশোরী মালাবতির করুণ জীবনকে কেন্দ্র করে প্রতিবেদন ছাপা হয় গত জানুয়ারি মাসের ভোরের কাগজে। সুদূর কানাডায় বসে ইন্টারনেটে ভোরের কাগজে মালাবতির প্রতিবেদন পাঠ করে সাহায্যের হাত বাড়ান প্রবাসী আকরামুল ইসলাম খান। তিনি মালাবতির পরিবারের বসবাসের জন্য ২৪ ফুট লম্বা ১টি টিনের ঘর তৈরি করে দেন। ঘরটি তৈরিতে ব্যয় হয় ৭০ হাজার টাকা। আর এ টাকার যোগান প্রবাস থেকে দেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি দেশে আসার পর তার উপস্থিতিতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন আনুষ্ঠানিক ভাবে উক্ত ঘরটি মালাবতির নিকট হস্তান্তর করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তাড়াশ উপজেলার নির্বাহী অফিসার শরীফ রায়হান কবির, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তোফায়েল হোসেন, ভোরের কাগজের মফস্বল বার্তা সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রফিক, তাড়াশ রিপোর্টার্স ইউনিটির উপদেষ্টা রুহুল আমিন, তাড়াশ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুর রাজ্জাক (রাজু), তাড়াশ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও ভোরের কাগজ প্রতিনিধি এম, মামুন হুসাইন প্রমুখ। নতুন তৈরি টিনের ঘরটি হস্তান্তরের পর মালাবতি আনন্দে চোখের পানি ফেলতে থাকে। তার মা জানায়, কুড়ে ঘর থেকে নতুন টিনের ঘরে বাস করতে পারব কোনদিন ভাবিনি।
উল্লেখ্য, মালাবতির ঘর নির্মাণ খরচ ছাড়াও প্রকৌশলী আকরামুল ইসলাম খান বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার অসহায় দুস্থ পরিবারের ২৬ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়ার খরচের জন্য প্রতিমাসে আর্থিক সহায়তা করে আসছেন। এছাড়াও তিনি ৪ জন দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন। প্রকৌশলী আকরামুল ইসলাম খাঁনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দাতিয়ারা গ্রামে। তিনি দীর্ঘ দিন যাবত্ কানাডায় কর্মব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন। কর্ম জীবনে খণ্ডকালীন সময়ে প্রাপ্ত আয়ের সমুদয় অর্থই তিনি বাংলাদেশের দুস্থ অসহায় পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনে দান করে আসছেন।