দাগনভূঁঞায় বিষমুক্ত সবজি চাষে সফলতা

দাগন ভূঁইয়া উপজেলায় সবজির পোকা দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এলাকার কৃষকরা সফলতা পেয়েছেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, দাগনভূঁইয়া উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কেরনিয়া গ্রামের কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান তার বেগুনক্ষেতে কীটনাশকের পরিবর্তে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ দিয়ে পোকা দমন করছেন। এতে কীটনাশকের খরচ বেঁচে গেছে। তিনি ২২ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করে চলতি বছর প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা আয় করেছেন। সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরিসহ খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে লাভ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। ছিদ্দিকুর রহমান জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার রায় তাকে এভাবে সবজি চাষে উত্সাহিত করেছেন। এ ছাড়া ফেনী থেকে কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সুনীল চন্দ্র ধর একাধিকবার তার সবজি ক্ষেত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। একই পদ্ধতিতে কৃষক জামাল উদ্দিন আট শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তিনি জানান, তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। বেগুন বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। তার পাশাপাশি আরো অনেকে একই পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ক্ষেতের বেগুন তুলে আমাদের বাজারে নিতে হয়নি। ব্যাপারীরা গ্রাম থেকেই পাইকারি দরে বেগুন কিনে নিয়ে গেছেন। একই উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান ৩২ শতাংশ জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করেছেন। তিনিও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপকৃত হয়েছেন। মফিজুর জানান, তিনি ইতিমধ্যে ক্ষেতের চিচিঙ্গা বিক্রি করতে শুরু করেছেন। প্রতিদিন সকালে ক্ষেতের পাশেই ব্যাপারী হাজির হন। প্রতি কেজি চিচিঙ্গা পাইকারি ৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, বিগত মৌসুমে চিচিঙ্গা চাষ করতে গিয়ে সপ্তাহে দুবার করে কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। এখন পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। এ প্রযুক্তি জাদুর মত কাজ করছে। দাগনভূঁঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার রায় বলেন, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উত্পাদনের মাধ্যমে কৃষক লাভবান হয়। তাই এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তি সমপ্রসারণে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সুনীল চন্দ্র ধর বলেন, কীটনাশক ব্যবহার না করে বিষমুক্ত সবজি উত্পাদন করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন দেখে অন্য কৃষকেরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।