ফেনীর অধিকাংশ নলকূপে আর্সেনিক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে জনগণ

ফেনী জেলার তিনটি উপজেলার অধিকাংশ নলকূপের পানিতে ভয়াবহ আর্সেনিক রয়েছে। বিশেষ করে ফেনী সদর উপজেলা, দাগনভূঁইয়া উপজেলা ও সোনাগাজী উপজেলার নলকূপগুলোর পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা এত ভয়াবহ যে, এলাকার লোকজন এই পানি পান করে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু এরপরও স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জনগণকে এই ভয়াবহ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতন করে তোলার ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতার অভাব, স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নানা অনিয়ম ও আর্সেনিক মোকাবেলায় এই বিভাগে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ফেনী পৌর এলাকায় ৮০ ভাগ বাসিন্দা ও ফেনী সদর উপজেলাসহ তিনটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ আর্সেনিক যুক্ত খাবার পানি পান করে প্রতিদিন নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অপরদিকে ফেনী শহর এলাকাসহ উল্লেখিত তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ আর্সেনিকমুক্ত নলকূপের পানি পান করার জন্য প্রতিদিন স্থাপন করছে নতুন নতুন অগভীর নলকূপ। আর্সেনিক নির্ণয়ের জন্য জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল না থাকায় নলকূপের পানিতে কী পরিমাণ আর্সেনিক রয়েছে তাও জানা যাচ্ছে না। একারণে ফেনী পৌর এলাকার এবং তিনটি উপজেলার কয়েক লাখ লোক বিষাক্ত আর্সেনিক যুক্ত খাবার পানি পান করে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমানে ফেনী জেলার সরকারী ও বেসরকারী মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার অগভীর নলকূপ থাকলেও প্রতিদিন মাত্র ২০ ভাগ অধিবাসী বিশুদ্ধ পানি পান করছে। অন্যদিকে ফেনী পৌর এলাকার জনগণের প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ গ্যালন বিশুদ্ধ পানির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পাম্প মেশিন ও ওভারহেড ট্যাঙ্ক না থাকায় পৌর জনগণ বিশুদ্ধ আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।