আর্ত-মানবতার সেবায় কাজী লেদার ফাউন্ডেশন

কাজী লেদার ফাউন্ডেশন ফেনীর একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। একটি লেদার মেশিন থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ ৫ শত মেশিনে উন্নীত হয়েছে। ২০০০ সালে নিজ বাড়ির ড্রয়িং রুম থেকে কাজী লেদার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী জামাল উদ্দিন ও তার সহধর্মিনী সুরাইয়া আক্তার লাভলী দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সমাজের বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও শারীরিক প্রতিবন্ধিদের মানব সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে নিজ বাড়িতে চামড়া পণ্য তৈরীর উদ্যোগ নেন। এসব সামগ্রী বাজারে বিক্রি করে তিনি এলাকার হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। ফাউন্ডেশনের শুরুর কথা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান কাজী জামাল উদ্দিন জানান, আনন্দপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পতিত জমিতে ১০টি লেদার মেশিন বসিয়ে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে থাকেন এবং তার গ্রামসহ আসে পাশের গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধি, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, দুস্থ মহিলা ও বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ করে দেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার সহধর্মিনী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুরাইয়া আক্তার। বিভিন্ন চামড়ার দ্রব্যসামগ্রী তৈরীর জন্য বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেয় এ ফাউন্ডেশন। বর্তমানে এই ফাউন্ডেশনের রয়েছে ৪ শতাধিক কর্মী। যারা একসময় ছিল সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত। শুধু মানুষের কাজের সুযোগ করে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি এ ফাউন্ডেশন। মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ফাউন্ডেশন থেকে স্কুলগামী ছাত্র ছাত্রীদেরকে বিনা মূল্যে স্কুল ব্যাগ এবং খাতা কলম দিয়ে সাহায্য করা হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে ফাউন্ডেনের উত্পাদিত চামড়া সামগ্রী জাপান, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জানান, দেশের প্রতিটি গ্রামে অথনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী ব্যক্তিরা এ ধরনের আর্তমানবতার সেবামূলক প্রকল্প গ্রহণ করলে দেশের বেকারত্ব দূর হয়ে যাবে।