সংবিধান সংশোধন করে উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া যেতে পারে :বি. চৌধুরী

প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেন, অতীতে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল না। সংবিধান সংশোধন করে তা করা হয়েছিল। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেল সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিকল্পধারা আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর সভাপতি বলেন, আমরা আশা করি, এ ব্যাপারে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তা যদি না হয়, তাহলে সামনে কঠিন অবস্থা হবে দেশের। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, যদি ঐ উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকেন, কেউ অসুস্থ হয়ে থাকেন কিংবা কেউ উপদেষ্টা হতে রাজি না হন তাহলে ১০ জন উপদেষ্টা হতে যে কয়েকজন বাকি থাকবেন তাদের নিয়োগে ১৪ দল ও ১৮ দলের বাইরে যে দল আছে তারা আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাকি উপদেষ্টাদের মনোনীত করবে। তিনি বলেন, এছাড়া একজন সম্মানিত নাগরিককে প্রধান উপদেষ্টা করার ব্যাপারে দুই নেত্রী ঐকমত্যে না পৌঁছাতে পারলে ঐ ১০ জন উপদেষ্টা ১০ জনের বাইরে থেকে কোন একজন সম্মানিত নাগরিককে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করবেন। বিকল্পধারার সভাপতি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্ধারিত মেয়াদের জন্য স্থায়ীভাবে একটি জাতীয় নাগরিক কাউন্সিল গঠনেরও প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, এই কাউন্সিল নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সকল কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধায়ন করবে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীরউত্তম বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যা বলে আসছেন তাই গত ১৮ অক্টোবর বলেছেন। আসলে তিনি গণতন্ত্রের যে ছবক দিচ্ছেন তা সঠিক নয়। এপ্রিলের আগে নির্বাচন দেবেন না। কাদের সিদ্দিকী প্রধান বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, আমাদের সরকারি দলের মতো প্রধান বিরোধী দলও ব্যর্থ। কারণ, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে তারা সব দলকে একত্র করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সাংবাদিক সম্মেলন ৫ দল একত্রিতভাবে করার কথা থাকলেও পরে এককভাবে বিকল্পধারা বাংলাদেশ আয়োজন করে। তবে বীরউত্তম বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ড. কামাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যৌথভাবে আরেকটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রব, মান্না’র ভিন্ন কথা এদিকে গতকাল এই সাংবাদিক সম্মেলনে না আসা প্রসঙ্গে পরে জাসদ (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব ইত্তেফাক বলেন, জোট গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আলোচনা নিষ্পত্তি হয়নি বলে আমি আসিনি। এ ব্যাপারে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়ে আমি আগে থেকে কিছুই জানি না। তাই অংশ নেয়নি।