‘মেয়েদের বিশ্বকাপ ভারতে চলে যেতে পারে’

আগামী বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও স্ববিরোধী খবরাখবর এ পর্যন্ত কম আসেনি। এর মধ্যে এমনও শোনা গিয়েছিল, বিশ্বকাপের পুরোটা বা অংশ বিশেষ ভারতে চলে যেতে পারে। আইসিসি সভা শেষে দেশে ফিরে গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন করে নির্বাচিত সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি বললেন, গুঞ্জন একেবারে মিথ্যা নয়। তিনি নিজেই আশঙ্কা করছেন, মেয়েদের বিশ্বকাপটা অন্তত ভারতে চলে যেতে পারে। এ ছাড়া আইসিসি সভা, সিলেট ভেন্যুর অবস্থা ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বললেন কাল পাপন— আমরা শুনেছি, আইসিসি ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। আইসিসির সভায় সিলেট ভেন্যু নিয়ে ঠিক কী আলোচনা হল? আইসিসি সভায় ভেন্যু ছাড়াও বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আলাপ হয়েছে। নির্বাচন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এটা ইতিবাচক ভাবে দেখা হয়েছে। আরেকটি বিষয় ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু অনুমোদন। আমাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেটা করতে পারিনি বলে সময় বর্ধিত করা হয়েছে। মূলত সিলেট স্টেডিয়াম নিয়েই সমস্যা। সর্বশেষ আইসিসির যে পরিদর্শক দল এসেছিল দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের প্রতিবেদন অতটা ভাল ছিল না। সেখানে তারা বলেছে, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে তো নয়ই, ডিসেম্বরের আগে শেষই হবে না। যদি ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয় সেক্ষেত্রে এ ভেন্যুতে খেলা হওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ আইসিসিকে টিকেট তো বিক্রি করতে হবে। ৭ নভেম্বর থেকে টিকেট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ছিল। ভেন্যুই নিশ্চিত না হলে টিকেট বিক্রি করবে কিভাবে? আমাদের কাছেও বিষয়টা খারাপ লাগছিল যে বারবার তাদের কাছে ভেন্যু প্রস্তুতির জন্য সময় চাচ্ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের আমরা একটা বিষয় বুঝাতে পেরেছি যে, মূল অবকাঠামোগত কাজগুলো সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। আসলে সিলেটের কী অবস্থা এখন? এখন যে কাজগুলো বাকি আছে তা আনুষঙ্গিক অর্থাত্ সাজানো- গোছানো। যেমন আসনগুলোর নাম্বার দেয়া এর মধ্যে একটি। কাজেই আমরা বলেছি এটা করতে আমরা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পেলেই হবে। আর এর মধ্যেই আমরা স্টেডিয়াম হস্তান্তর করে দিতে পারব। তবে শোনার সঙ্গে সঙ্গেই অধিকাংশ দেশের বোর্ডপ্রধান এতে সম্মত হয়েছেন। বিশেষ করে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুইয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোর্ড প্রধানরা তো সাথে সাথেই বলেছেন ২০ তারিখের মধ্যে হলে আমরা অপেক্ষা করতেই পারি। তবে এরপর আর একদিনও অপেক্ষা করবেনা আইসিসি। তখন আসলে কী হবে? যদি এর মধ্যে আসলেই না পারেন আপনারা? এক্ষেত্রে এ ভেন্যুর খেলা বাইরে চলে যাবে। সেটা বাংলাদেশেরই কোন ভেন্যু বা দেশের বাইরে হতে পারে। তার মানে ডালমিয়ার দাবিমতো ভারতে চলে যেতে পারে খেলা? তারা দাবি করেছিলেন দু’টি খেলা নিয়ে। এক ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচটি তারা চাচ্ছিলেন কলকাতায় আর মহিলাদের খেলাগুলো। যদি আমরা ভেন্যু প্রস্তুত করতে না পারি, এটা অবশ্য যৌক্তিক দাবি। কারণ বিকল্প একটা ভেন্যু থাকা ভাল। আমাদের এখান থেকে গেলে মহিলাদের খেলাটা যেতে পারে এছাড়া আর কোন খেলা অন্য কোথাও যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি কোন খেলাই দেশের বাইরে যাবে না। আমরা ২০ তারিখের মধ্যে স্টেডিয়ামের কাজ সম্পন্ন হবে। ২৫ অক্টোবরের পর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবির ব্যবস্থা নিয়ে বাড়তি কিছু ভাবছেন? আমার মনে হয় না নিরাপত্তা নিয়ে কোন সমস্যা আছে। কারণ বিদেশী যেকোন দল খেলতে আসলেই তারা এখানে ভিভিআইপি মর্যাদার নিরাপত্তা পান। আমাদের এবারও সেই ব্যবস্থা আছে। আর খেলাধূলা নিয়ে বাংলাদেশে কখনো কোন সমস্যা হয়নি এবং আমার ধারণা এবারও হবে না। বিপিএলের ট্রাইবুনালের ব্যাপারটা কী থমকে গেল? আগামী বিপিএল নিয়ে চিন্তাটা কী? বিপিএল নিয়ে যে ইস্যুটা আছে সেটা হচ্ছে আপনারা জানেন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এখন তাদের কার্যক্রম যে কোন দিন শুরু হয়ে যাবে। আর বিপিএল আগামীটা আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে করতে চাই। বিশ্বকাপের আগে আমাদের আসলে মাঝে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলা আছে, এশিয়া কাপ আছে এবং এরপর বিশ্বকাপ। সে কারণে টি ২০ খেলা কিন্তু সেভাবে আর হচ্ছে না। এ কারণে আমরা খুব চাচ্ছি বিপিএলটা হোক। কিন্তু বিপিএল হতে গেলে গত বিপিএলে যে সম্যসাগুলো হয়েছে সেগুলোর একটা সমাধান করতেই হবে। এটা শেষ না হলে বিপিএলটা কিন্তু আমরা খেলাতে পারব না। যদি সমস্যার সমাধাণ না হয়, তাহলে একটা বিকল্প টুর্নামেন্ট চালু করতে হবে যাতে একটা টি-টোয়েন্টি প্র্যাকটিস আমাদের দলের হয়ে যায়।