আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে চার ম্যাচ খেলে সবকটিই জিতেছিল বাংলাদেশ। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টাইগাররা। বিশ্বকাপের আগে এ শিরোপা নিশ্চিতভাবেই প্রেরণা জোগাবে বাংলাদেশকে। ট্রফি জিতলেও এ সিরিজে ব্যাটসম্যানরা কোনো সেঞ্চুরি পাননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন জন চারটি সেঞ্চুরি করেছেন। আয়ারল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যানও সেঞ্চুরি করেছেন। উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম ইকবাল।
দিন দশেক পরে শুরু হতে চলা বিশ্বকাপে থাকবে ফ্লাট উইকেট, রানের উইকেট। বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) কোচ সিমন হেলমুট গতকাল বলেছেন, বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরি করতে হবে, বড় জুটি গড়তে হবে। ত্রিদেশীয় সিরিজে সেঞ্চুরি না আসলেও বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং সামর্থ্যে আস্থা রাখছেন হেলমুট। এই অস্ট্রেলিয়ানের মতে, হাই স্কোরিং ম্যাচ খেলা তথা রান তাড়া করা, বড় স্কোর গড়ার সামর্থ্য রয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনের।
দুটি সেঞ্চুরিতে ৪৭০ রান করে ত্রিদেশীয় সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান ক্যারিবিয়ান ওপেনার শাই হোপ। এক সেঞ্চুরিতে আমব্রিস করেছেন ২৭৮ রান। তৃতীয় স্থানে আছেন ২০৭ রান করা আয়ারল্যান্ডের পল স্টারলিং। তারও একটি সেঞ্চুরি আছে। তিন ম্যাচে তিন হাফ সেঞ্চুরিতে ১৯৩ রান করে চতুর্থ স্থানে বাংলাদেশের সৌম্য সরকার। এছাড়া তামিম ১৭৬, মুশফিক ১৬৬, সাকিব ১৪০, মাহমুদউল্লাহ ৮৪ রান করেছেন।
টানা তৃতীয় বছর এইচপির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হেলমুট। আইপিএলে হায়দরাবাদের সহকারী কোচ, বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের কোচ তিনি। ত্রিদেশীয় সিরিজে না পেলেও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরি করতে হবে জানিয়ে এই অস্ট্রেলিয়ান গতকাল বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে দরকার (সেঞ্চুরি)। আমার মনে হয় আপনাকে সেঞ্চুরি করতে হবে এবং সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় জুটি গড়তে হবে। ব্যক্তিগত বড় ইনিংস দলকে ভালো টার্গেট ঠিক করতে বা স্কোর তাড়া করতে সাহায্য করবে।’
অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন নিয়ে আশাবাদী হেলমুট। তার মতে, হাই স্কোরিং ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য আছে তামিম-মুশফিকদের। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে তিনশো বা তার বেশি রান করা এবং তাড়া করা বাংলাদেশের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হবে জানতে চাইলে হেলমুট গতকাল বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি মালাহাইডে কী হয়েছে সম্প্রতি, ২২ ওভারে ২১৩ রান হয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের খুব ভালো ব্যাটিং লাইন আছে। আমরা বিপিএল ফাইনালে তামিমকে দেখেছি খুব কম সময়ে অনেক রান করতে। আমার মনে হয় আমরা এই জায়গাতে নিশ্চিতভাবেই উন্নতি করেছি। অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে আমাদের ভালো শক্তি আছে। শুধু বড় স্কোর গড়া বা ভালো স্ট্রাইক রেট নিয়ে খেলাই সব নয়, আপনাকে ভালো ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ে নিজের সেরাটা দিতে হবে।’
বিশ্বকাপ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেই আশা করছেন হেলমুট। শৃঙ্খলিত বোলিং, ব্যাট হাতে মাঝের ওভারগুলোতে ভালো করা দলকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘আমরা জানি এখানে বড় স্কোরের ম্যাচ হবে, ফ্লাট উইকেট থাকবে। তাই যে দল ভালো বোলিং করবে এবং ব্যাট হাতে মাঝের ওভারগুলোতে সুযোগ নিতে পারবে, তাদের হারানো খুব কঠিন হবে এ বিশ্বকাপে।’