ত্রিদেশীয় সিরিজ ফাইনাল

কখনই বিশ্বাস হারায়নি বাংলাদেশ দল

স্পোর্টস রিপোর্টার

ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। চার ম্যাচ খেলে সবকটিতেই জিতেছে টাইগাররা। তবে ফাইনালে স্নায়ুচাপ, বিরুদ্ধ কন্ডিশন, রানের চাপ সামলেছে বাংলাদেশ দল। বলা চলে, ব্যাট হাতে বড় পরীক্ষাই দিয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাটে সেই চ্যালেঞ্জ উতরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালে আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল এক উইকেটে ১৫২ রান। ডিএল মেথডে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২১০ রান। ডাবলিনে শুরুতে সৌম্য ও শেষে মোসাদ্দেকের ব্যাটিং ঝড়ে ৭ বল আগেই ম্যাচ জিতেছিল মাশরাফি বাহিনী।

তামিম, মুশফিকদের মতো অভিজ্ঞরা সাজঘরে ফিরলেও ফাইনালে কখনোই ভড়কে যায়নি বাংলাদেশ। ড্রেসিংরুমে হারের চিন্তা আসেনি। সবসময় জয়ের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ক্রিকেটাররা। গতকাল এমনটাই বলেছেন ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে আয়ারল্যান্ড থেকে ফেরা ফরহাদ রেজা।

গতকাল ভোরেই ঢাকায় নেমেছিলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে দুপুরের পর ফরহাদ রেজা যোগ দিয়েছেন বিসিবির এলিট প্লেয়ার্স স্কিল ক্যাম্পে। গতকাল দেশে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ, ইয়াসির আলী রাব্বিরাও।

প্রায় পাঁচ বছর পর জাতীয় দলে ডাক পেলেও ম্যাচ খেলা হয়নি ফরহাদ রেজার। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের একাদশে ঠাঁই পাননি। তবে ড্রেসিংরুমে থেকে ট্রফি জয়ের মিশনে সামিল ছিলেন ফরহাদ রেজাও। গতকাল তিনি বলেছেন, ম্যাচের কখনোই হারের চিন্তা পেয়ে বসেনি বাংলাদেশ শিবিরে। ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপরের দুই-তিনটা ব্যাটসম্যানই ছিল। আমরা চিন্তা করেছি আমরা যদি শুরুতে দুই-তিনটা উইকেট নিতে পারি তাহলে চাপে ফেলা যাবে। নিচের ওরা ফর্মে ছিল না। আর আমাদের এক মুহূর্তেও মনে হয়নি ম্যাচটা হারব। আমাদের সবার মধ্যেই ছিল যে এবার আমরা জিতব।’

নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছুই পেয়েছে বাংলাদেশ। দল হিসেবে এটাই ছিল স্বস্তির জায়গা। গতকাল ফরহাদ রেজা বলেছেন, ‘অনেক দিন পর গিয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে। খুব ভালো লেগেছে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে খেলতে পেরেছি।’

বাংলাদেশে তীব্র গরমে অনুশীলন শেষে আয়ারল্যান্ডে প্রচণ্ড শীতের কবলে পড়ে মাশরাফি বাহিনী। কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে তাই একটু সময়ও লেগেছে ক্রিকেটারদের। ফরহাদ রেজা বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে খুব ভালো খেলেছি, বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিংয়ে। একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ ছিল, যেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল, মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল। পরে মাশরাফি ভাই ড্রেসিং রুমে কথা বলেছে। সবাইকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করেছে। সবাই খুব ভালো করছে।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে ম্যাচ খেলতে না পারলেও খুব একটা আফসোসে পুড়ছেন না ফরহাদ রেজা। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আফসোস না। জাতীয় দলের জায়গাটাই এমন। যে পারফর্ম করবে সে থাকবে, যে করবে না সে থাকবে না।’

তবে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার আশা ছাড়ছেন না ফরহাদ রেজা। সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘বলতে পারব না যে এখনই কি শেষ কিনা। তবে আমি যেখানেই খেলি আমি আমার শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব।’