নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চট্টগ্রামে মিছিল-সমাবেশ, আহত ৫

চট্টগ্রামে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন এবং পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ সিএমপি’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। একাধিক স্থানে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বাধা প্রদান লাঠিচার্জ এবং মারধর করলে নগর মহিলা দলের সভানেত্রী ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি ও ফাতেমা বাদশা আহত হন। তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির পুলিশ কর্তৃক লাঞ্ছিত হন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সমাবেশ আহ্বানসহ নগরীতে এক প্রকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রেক্ষিতে সিএমপি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীতে সকল প্রকার সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএনপিসহ ১৮ দলের উদ্যোগে গত বুধবার রাতে এক জরুরি সভায় সিএমপি’র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সভা-সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পূর্ব কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে নগরীর ওয়াসা মোড় এলাকায় পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে সমাবেশ ডাকা হয়। বেলা আড়াইটার সময় ওয়াসা মোড় সংলগ্ন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ গেইট এলাকায় পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ জড়ো হন। কিন্তু দুপুর থেকে পুরো ওয়াসা মোড় এলাকা বিজিবি ও পুলিশ ঘিরে রাখে। পেশাজীবী নেতা-কর্মী এক পর্যায়ে বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ তাদের স্থান ত্যাগ করতে বলে ধাওয়া করে। এরপর পেশাজীবী নেতৃবৃন্দসহ কর্মী-সমর্থকগণ অনতিদূরে আলমাস সিনেমা হল মোড়ে চলে যান। ওই স্থানে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনসহ মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা পেশাজীবীদের সাথে মিলে পুনরায় সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ ধাওয়া ও পরে লাঠিচার্জ করে। এ সময় মনোয়ারা বেগম মনি ও ফাতেমা বাদশা পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে আহত হলে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। মীর নাছির রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়াকালে পুলিশ তাকে টেনে হেঁচড়ে নামিয়ে দেয় এবং ধাওয়া করে। উক্ত স্থানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন পেশাজীবী নেতা ও বিএনপির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক মহাসচিব ডা. খুরশীদ জামিল, প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, ডা. জসীম উদ্দিনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। এখানে ৫ জন আহত হন। পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। এদিকে সকাল ১১টা নাগাদ নগরীর বাকলিয়া বলিরহাট এলাকায় আবদুল্লাহ আল নোমান ও ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয় এবং সংক্ষিপ্ত সভা করা হয়। বিকালে বিএনপির নাসিমন ভবন কার্যালয় চত্বরে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে গণতন্ত্রের লড়াই শুরু হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকারের এ লড়াইয়ে বিজয় না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরে যাবে না। পুলিশ দিয়ে জনস্রোত ঠেকানো যাবে না। লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ হবেই। চট্টগ্রাম নগর জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিবৃতি একতরফা ও একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত, অবৈধ সরকারের পদত্যাগ এবং সংসদ বাতিল করে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ১৮ দলীয় ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আজ শুক্রবার নগরীর লালদিঘীর ময়দানের সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমপি ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে একথা বলা হয়। ইসলামী ঐক্যজোটের জরুরি সভা ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত এক জরুরি সভা নগর সহ-সভাপতি মাওলানা হাজী মুজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নগর সভাপতি মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রুহী বলেন, সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে সভা-সমাবেশের উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তা জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।