এইচএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান
অলোক কুমার মিস্ত্রী (প্রভাষক) জীববিজ্ঞান বিভাগ
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:০৬
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের নতুন পাঠ্য বইয়ের আলোকে জীববিজ্ঞান প্রথমপত্রের অধ্যায় ঃ ১ কোষ ও এর গঠন (Cell & It’s Structure) - থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করব,
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং এর আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(ক) জীন কী ?
(খ) চিত্রটি চিহ্নিতকরণ কর।
(গ) চিত্রে P চিহ্নিত অংশটির নাম কী ? এর উপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ দেখাও।
(ঘ) জীবদেহের লিঙ্গ নির্ধারণ উপরের উপাদানটির ভূমিকা তোমার নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ঃ
(ক) উত্তর ঃ
জীন (Gene) ঃ জীন হলো ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থিত DNA অণুর সুনির্দিষ্ট সিকুয়েন্স, যা জীবকে একটি ‘নির্দিষ্ট কার্যকর সংকেত’ এ আবদ্ধ (encode) করে এবং প্রোটিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়। অন্যভাবে বলা যায়, জীন ক্রোমোসোমস্থ DNA- এর একটি অংশ, যা একটি কর্মক্ষম পলিপেপটাইড চেইন গঠনের উপযুক্ত বার্তা বহন করে। তাই জীনকে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়। এটি বংশগতির আনবিক এককও বটে।
(খ) উত্তর ঃ
Fig : Structure of Cromosome
(গ) উত্তর ঃ চিত্রে P চিহ্নিত অংশটির হলো ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার ।
সেন্ট্রোমিয়ায়ের অবস্থান অনুসারে ক্রোমোজোমকে নিম্নলিখিত ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা ঃ
মেটাসেন্ট্রিক বা মধ্যকেন্দ্রিক (Metacentric)
সাব-মেটাসেন্ট্রিক বা উপ-মধ্যকেন্দ্রিক (Sub-metacentric)
অ্যাক্রোসেন্ট্রিক বা উপ-প্রান্তকেন্দ্রিক (Acrocentric)
টেলোসেন্ট্রিক বা প্রান্তকেন্দ্রিক (Telocentric)
চিত্র ঃ (ক) অ্যাক্রোসেন্ট্রিক (খ) সাব-মেটাসেন্ট্রিক (গ) মেটাসেন্ট্রিক
(ঘ) টেলোসেন্ট্রিক
১। মেটাসেন্ট্রিক বা মধ্যকেন্দ্রিক (Metacentric) ঃ সেন্ট্রোমিয়ার যখন ক্রোমোজোমের মাঝখানে অবস্থান করে তখন ঐ ক্রোমোজোমকে মেটাসেন্ট্রিক বা মধ্যকেন্দ্রিক ক্রোমোজোম বলে। এদের বাহু দুটি সমান বা প্রায় সমান হয়ে থাকে। অ্যানাফেজ দশায় এ ধরনের ক্রোমোজোমকে ‘V’ আকৃতির মতো দেখায়।
২। সাব-মেটাসেন্ট্রিক বা উপ-মধ্যকেন্দ্রিক (Sub-metacentric) ঃ সেন্ট্রোমিয়ারটি যখন ক্রোমোজোমের ঠিক মাঝখানে অবস্থান না করে কিছুটা পাশের দিকে অবস্থান করে তখন ঐ ক্রোমোজোমকে বলা হয় সাব-মেটাসেন্ট্রিক বা উপ-মধ্যকেন্দ্রিক ক্রোমোজোম। অ্যানাফেজ দশায় এ ধরনের ক্রোমোজোমকে ‘L’ আকৃতির মতো দেখায়।
৩। অ্যাক্রোসেন্ট্রিক বা উপ-প্রান্তকেন্দ্রিক (Acrocentric) ঃ সেন্ট্রোমিয়ারটি ক্রোমোজোমের প্রান্তের দিকে থাকলে ঐ ক্রোমোজোমকে অ্যাক্রোসেন্ট্রিক বা উপ- প্রান্তকেন্দ্রিক ক্রোমোজোম বলে। অ্যানাফেজ দশায় এ ধরনের ক্রোমোজোমকে ‘J’ আকৃতির মতো দেখায়।
৪। টেলোসেন্ট্রিক বা প্রান্তকেন্দ্রিক(Telocentric) ঃ সেন্ট্রোমিয়ারটি যদি ক্রোমোজোমের কোন প্রান্তে অবস্থান করেতবে ঐ ক্রোমোজোমকে টেলোসেন্ট্রিক বা প্রান্তকেন্দ্রিক ক্রোমোজোম বলে। অ্যানাফেজ দশায় এ ধরনের ক্রোমোজোমকে ‘I’ আকৃতির মতো দেখায়।
(ঘ) উত্তর ঃ জীবদেহের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য ক্রোমোজোমের মধ্যে সেক্র ক্রোমোজোম বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আর এ ক্রোমোজোমগুলোকে সাধারণত X ওY (বাO) নামে নামকরণ করা হয়। মানব সৃষ্ট দেহে প্রতিকোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২২ জোড়া উভয় লিঙ্গে একই রকম এবং এদেরকে অটোজোম (autosome) বলা হয়। কিন্তু ২৩ তম জোড়ার ক্রোমোজোম নারী ও পুরুষ সদস্যে ভিন্নতর এবং ্এগুলোকে হেটারোজোম (heterosome) বা সেক্স ক্রোমোজোম (sex cromosome) বলে।
মানবদেহে সাধারণত দুধরনের সেক্স ক্রোমোজোম রয়েছে যা X ওY ক্রোমোজোম নামে পরিচিত। যার দেহে ২৩ তম ক্রোমোজোম- জোড় ২ টি X ক্রোমোজোমে (XX) গঠিত সে ব্যক্তি নারী, অন্যদিকে যার ক্রোমোজোম জোড়ের একটি X ও অন্যটি Y ক্রোমোসোম (XY) সে ব্যক্তি পুরুষ। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যাবতীয় বৈশিষ্ট্য জীন নিয়ন্ত্রিত হলেও লিঙ্গ নির্ধারনের ক্ষেত্রে ক্রেমোসোমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অর্থাত্ লিঙ্গ নির্ধারণ হয় সেক্স ক্রোমোসোমের মাধ্যমে।
নারী সদস্যের যে সকল গ্যামিট সৃষ্টি হয় তাতে শুধু X থাকে। আর একারণেই নারীকে হোমোগ্যামিট সেক্স এবং এসকল গ্যামিটকে হোমোগ্যামিট বলে। অন্যদিকে, পুরুষ সদস্যে দুধরনের গ্যামিট সৃষ্টি হয়। এক ধরনের গ্যামিট এ থাকে
X এবং অন্যধরনের গ্যামিট এ থাকে Y ক্রোমোজোম। পুরুষকে তাই হেটারোগ্যামিটিক সেক্র এবং এসব গ্যামিটকে হেটারোগ্যামিট বলে।
স্ত্রী গ্যামিট(ডিম্বাণু বা Ovum) যদি Y ক্রোমোজোমবাহী পুরুষ গ্যামিট (শুক্রাণু বা Sperm) দিয়ে নিষিক্ত হয় তবে সন্তান হবে পুত্র (XY) , আর যদি X ক্রোমোজোমবাহী গ্যামিট দিয়ে নিষিক্ত হয় তাহলে তা হবে কন্যা (XX)। অর্থ্যাত্ পিতার গ্যামিটই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য দায়ী, এক্ষেত্রে মায়ের কোন ভূমিকা নেই। পরিশেষে উক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, জীবদেহের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোসোমের ভূমিকা রয়েছে।