মু খো মু খি

সিরিয়াস নাটক দেখতে পারলে ভালো লাগত

একজন অভিনেতা নয়, নাটকের একজন একনিষ্ঠ দর্শক হিসেবে এই ঈদের নাটকের মান প্রসঙ্গে আপনার মতামত জানতে চাইছি। প্রথমত নাটকের মান যাচাই-বাছাই করার মতো যোগ্যতা আমার নেই। সেটা অনেক অভিজ্ঞতার ব্যাপার। তার উপরে এবারের ঈদে আমি দেশের বাইরে ছিলাম। ঈদের তৃতীয় দিন দেশে ফিরেছি। খুব একটা নাটকও দেখতে পারিনি। চ্যানেলের সংখ্যাও এখন অনেক, ৭ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। অনেক অনেক নাটক প্রচার হয়েছে। তাই এই অল্প অভিজ্ঞতা থেকে এর মান বিচার করাটা ঠিক হবে না। এটুকু বলব যে, ভালো-মন্দের মিশ্রণ থাকবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বেশ কিছু ভালো কাজ চোখে পড়েছে। এবারের ঈদের নাটক কতটুকু দর্শকবান্ধব হয়েছে বলে মনে হয়? পাশাপাশি অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবারের নাটকের মান প্রসঙ্গেও জানতে চাই। তুলনা যদি করতে হয় তাহলে বলব, এবারের ঈদের নাটকের চেয়ে গত ঈদের নাটকের মান আমার কাছে বেশি ভালো মনে হয়েছে। আবার এটাও হতে পারে, গত ঈদে দেখার পর এবারের ঈদে চাওয়াটা বেড়ে গেছে, আর সেই চাহিদা পূর্ণ হয়নি বলে এমনটা মনে হচ্ছে। তবে দর্শকদের তো দেখার চাহিদার কোনো শেষ নেই। একেক জনের চাহিদাও একক রকম। তাই দর্শকবান্ধব হওয়াটাও একেক নাটক একেক জনের কাছে একেক রকম। আমরা কেউ কখনও এই জরিপটা করতে পারি না। তারপরও মাঝে মধ্যে কিছু নাটক তো অধিক আলোচনায় চলে আসেই। একজন দর্শক হিসেবে আমি যদি আমার জায়গা থেকে বলি তাহলে বলব, সিরিয়াস নাটক কম দেখেছি, আমার নিজের অভিনীতও সিরিয়াস নাটক কম ছিল। তবে সিরিয়াস নাটক দেখতে পারলে ভালো লাগত। এখানে আরেকটা বিষয় আছে, ঈদ মানেই আনন্দ। তাই দর্শকদের এন্টারটেইন করার জন্য হাসির নাটকই নির্মাণ হয় একটু বেশি। ঈদের এই আনন্দে দর্শকরাও হয়তো এটাই চায়। এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। গত কয়েক ঈদ ধরে ঈদের নাটকের প্রায় ৯৫ শতাংশ নাটক প্রচার করছে বিজ্ঞাপন এজেন্সিরা। দুয়েকটি চ্যানেল বাদে সবক’টি চ্যানেলই এখন বিজ্ঞাপন এজেন্সিদের মতের উপরই চলছে প্রায়। এতে নাটকের মান ও নাটক শিল্প কোন দিনে প্রবাহিত হচ্ছে বলে আপনার মনে হয়? আসলে একটা চ্যানেল অনেকাংশেই নির্ভর করে বিজ্ঞাপনের উপর। তাই তারাই আসলে ভালো বলতে পারবে—কোন দিকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি খুব কিছু বলতে পারছি না। তবে এটুকু বলব, সবাই মানসম্মত প্রোডাক্টের প্রতিই মনোযোগ রাখার চেষ্টা রাখে নিয়মিত। আমাদের চ্যানেলগুলোতে এখন ৭ দিনব্যাপী ঈদ আয়োজন হয়। এই দীর্ঘ সময় ব্যক্তির আয়োজনটা কীভাবে দেখেন? ছোটবেলা থেকেই জানতাম ঈদ হয় ৩ দিন। আয়োজনকে অমি কখনোই খারাপ বলি না, আমরা বাঙালি আনন্দে থাকতে পছন্দ করি। যত দিন যাচ্ছে এর আয়োজন বাড়ছে। আগে তো পহেলা বৈশাখ, নজরুল জয়ন্তী, রবীন্দ্র জয়ন্তী সবকিছুই হতো সীমিত আয়োজনে। আর এখন এগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবেই বড় আকারে পালন করা হচ্ছে। এটাকে আমি খারাপ মনে করি না। তবে আয়োজনটা শুধুমাত্র ব্যবসার প্রতি মনোযোগী হলে ক্ষতির কারণ আছে বলে মনে করি।