শিবির সন্দেহে ঢাবিতে সাত জনকে মারধর
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২১
আটটি ককটেল বিস্ফোরণ
অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে প্রবেশপথ শাহবাগ মোড়, শিশু পার্কের গেট, নীলক্ষেতসহ কয়েকটি স্থানে আটটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। শিবির কর্মী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সমাবেশে আগত অন্তত সাতজনকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় মহড়া দেয়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শাখার নেতা-কর্মীরা। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। এদের মধ্যে কয়েকজন উদ্যান সংলগ্ন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পুলিশ সমাবেশস্থলে অবস্থান করতে পরামর্শ দেয়। সকাল সোয়া নয়টার দিকে কামরাঙ্গীর চর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আগত রাফিউর রহমান ও আবদুল মালেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানরত ছাত্রলীগের কয়েকজন তাদের শিবির কর্মী বলে সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর একপর্যায়ে মারধর করে। আহত ঐ দুই জনকে শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের চিকিত্সার জন্য পাঠায়।
বিকাল সোয়া চারটার দিকে টিএসসিতে খোরশেদ নামে এক জনকে শিবির কর্মী সন্দেহে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তাকেও পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে চারজনকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের মধ্যে আলমগীর নামে একজন ছাত্র শিবিরের ঢাকা মহানগরীর কর্মী বলে জানা গেছে। তাকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়াও ওবায়দুল নামে এক কলেজ ছাত্রসহ তিনজনকে মারধর করে ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে সমাবেশ শেষ হওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় ছয়টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এবং শিশু পার্কের গেটে পৃথক চারটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নীলক্ষেত মোড় ও পলাশী মোড়ে চারটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় কাউকে তাত্ক্ষণিকভাবে আটক করা যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অস্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে তল্লাশি ও অতিরিক্ত টহল চালায় পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে ও সকল হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে মহড়া দেয় ছাত্রলীগ। রাত ১২টার পর অধিকাংশ হলের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, বহিরাগত কয়েকজনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে তাদের উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সহিংসতা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।