আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে

দিনভর উত্তেজনা ও উদ্বেগের পর অবশেষে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে মহানগর ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জুমার নামাজের পর থেকে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা কোর্ট পয়েন্টের দিকে আসতে শুরু করেন। বিকালের আগেই কোর্ট পয়েন্ট এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। কুদরত উল্লাহ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। তবে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নগরীর রংমহল পয়েন্টে বিএনপি আরেকটি সমাবেশ করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও ১৮ দলীয় জোটের আহ্বায়ক এম এ হক। সমাবেশ থেকে বক্তারা শেখ হাসিনার সরকারকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে বলেন, আজ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। তারা সরকার পতনের মাধ্যমে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে আনারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সমপাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, কেন্দ্র সিনিয়র সহ-সভাপতি দিলদার হোসেন সেলিম, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরীয়ার হোসেন চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিম হোসাইন, সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, নোমান মাহমুদ, সাধারণ সমপাদক আবদুল কাইয়ূম জালালী পংকী, যুগ্ম সমপাদক আজমল বখত সাদেক, সাংগঠনিক সমপাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা সাংগঠনিক সমপাদক আলী আহমদ, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ডা. সায়েফ আহমদ, নায়েবে আমীর হাফিজ আবদুল হাই হারুন, সহকারী সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম, জেলা দক্ষিণ আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, এলডিপি নেতা সাইদুর রহমান চৌধুরী রুপা, জেলা যুবদলের সভাপতি এমএ মান্নান, সাধারণ সমপাদক মামুনুর রশীদ, জমিয়ত নেতা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নগরীর রংমহল পয়েন্টে বিএনপি আরেকটি সমাবেশ করে গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা দল, স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল, ছাত্রদল, ওলামাদল, মহিলাদল ও জাসাসের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। বিকাল ৪টার দিকে সমাবেশ শেষ করে তারা আবার কোর্ট পয়েন্টে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে যোগ দেন। এর আগে রংমহল পয়েন্টে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হলে মহানগর পুলিশ তাদের অনুমতি দেয়নি। পুলিশের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই তারা সমাবেশ করেন। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী রংমহল পয়েন্টে গিয়ে অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের কোর্ট পয়েন্টের সমাবেশে নিয়ে আসেন। কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজারে ১৪৪ ধারা সিলেটের কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার পৌর শহর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বিএনপি, জামায়াতসহ ১৮ দলের এবং আওয়ামী লীগের এবং বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণ বাজারে ১৮ দলীয় জোটের দুই গ্রুপের উদ্যোগে একই সময়ে একই স্থানে সভা আহ্বানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে শুক্রবার কানাইঘাট পৌর শহরে বিএনপি ও ১৮ দল সমাবেশের ঘোষণা দেয়। হঠাত্ করে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পৌরশহরে পাল্টা সমাবেশের ডাক দিলে দুই জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট পৌর শহরে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। বিয়ানীবাজার পৌর শহরের দক্ষিণ বাজারে ১৮ দলীয় জোটের দুই গ্রুপ একই স্থান ও সময়ে সমাবেশের ডাক দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।