এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গ : ব্যাকরণ
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:০৮
মুহাম্মদ দিলওয়ার হুসাইন
প্রভাষক, চাঁদগাজী হাই স্কুল এন্ড কলেজ
এইচএসসি পরীক্ষায় সবাই ব্যাকরণ অংশে সমাস ,প্রকৃতি ও প্রত্যয় , বিপরীত শব্দ , পারিভাষিক শব্দ , প্রতিশব্দ , বাক্যরূপান্তর এবং বানানশুদ্ধি দিয়ে ৩০ নম্বরের উত্তর পূর্ণ করতে চায় । কিন্তু সবসময় সে সুযোগ হয়ে ওঠেনা । ফলে বাধ্য হয়ে অনেক সময় ব্যাকরণ অংশের বর্ণনামূলক প্রশ্নেরও উত্তর করতে হয় । সে ক্ষেত্রে উত্তরটি মানসম্মত না হলে কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাওয়া যায়না । আজ সে ধরণের একটি প্রশ্নের নমুনা উত্তর দেয়া হল :
প্রশ্ন : উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে — আলোচনা কর ।
উত্তর : আমরা জানি , যে সকল অব্যয় সূচক বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দ বা শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠণ করার পাশাপাশি মূল শব্দের অর্থের পরিবর্তন , পরিবর্ধন ও সংকোচন সৃষ্টি করে থাকে তাকে উপসর্গ বলে । যেমন : প্র , পরা , দু ,নি
ইত্যাদি ।
উপর্যুক্ত উপসর্গ সমূহের নিজের কোন অর্থ নেই অথচ যে শব্দের পূর্বে বসে সে শব্দের আকৃতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থের মাঝে দ্যোতকতা সৃষ্টিতে বেশ পারদর্শি । উদাহরণ হিসেবে বলা যায় “হার” শব্দটির অর্থ হচ্ছে
পরাজয় । এই শব্দটির পূর্বে ‘প্র’ উপসর্গটি যুক্ত করলে নতুন শব্দ গঠিত হয় প্র+হার=প্রহার , ‘বি’ উপসর্গটি যুক্ত করলে নতুন শব্দ গঠিত হয় বি+হার= বিহার , ‘উপ’ উপসর্গটি যুক্ত করলে নতুন শব্দ গঠিত হয় উপ+হার= উপহার , ‘আ’ উপসর্গটি যুক্ত করলে নতুন শব্দ গঠিত হয় আ+হার= আহার । একই শব্দ অথচ উপসর্গের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ লক্ষণীয় । অর্থাত্ প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থের দ্যোতকতা সৃষ্টি হয়েছে ।
শুধুমাত্র অর্থের পরিবর্তনের মাধ্যমে নয় , অর্থের পরিবর্ধনের মাধ্যমেও উপসর্গ অর্থদ্যোতকতা সৃষ্টি করতে পারে । পসঙ্গত বলা যায় যে , ‘জরুরী’ শব্দটি দিয়ে আমরা যা বুঝে থাকি তার পূর্বে ‘অতি’ উপসর্গটি যুক্ত করলে নতুন শব্দ গঠিত হয় অতি+জরুরী = অতিজরুরী । এতে অর্থের পরিধি অনেক বেড়ে যায় , অর্থের মাঝে দ্যোতকতাও লক্ষ্য করা যায় ।
অর্থের পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন ছাড়াও অর্থসংকোচন করেও উপসর্গ অনেক সময় অর্থদ্যোতকতা সৃষ্টি করতে পারে । যেমন : ‘দেশ’ দিয়ে যা বুঝি তার পূর্বে ‘প্র’ উপসর্গটি যুক্ত করলে নতুন শব্দ গঠিত হয় প্র+দেশ=প্রদেশ । এতে অর্থের পরিধি অনেক কমে যায় অর্থের মাঝে দ্যোতকতাও লক্ষ্য করা যায় ।
তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে , উপসর্গের নিজের অর্থ না থাকলেও অন্য শব্দের অর্থের মাঝে দ্যোতকতা সৃষ্টিতে অসাধারণ ক্ষমতা সংরক্ষণ করে । এ কারণে বলা হয়ে থাকে “ উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে ।”