চোখ এখন ওয়ানডেতে

এমন না যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ চিরকালই ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ এ যাবত্ ম্যাচ খেলেছে ২১টি। এর মধ্যে ২০১০ সালের ওই সিরিজের আগে খেলা ১৭টি ম্যাচের ১৬টিতেই জিতেছিল নিউজিল্যান্ড; কিন্তু এই একপেশে পরিসংখ্যানকে একেবারে পাশার দানের মতো উল্টে দেয় বাংলাদেশ ২০১০ সালে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে। এমনই অক্টোবর মাস ছিল সেটা। এমনই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, এমনই হালকা শীতের আগমনী সুর। এসব দেখে বাঙালির মন দ্রবীভূত হয়ে যেতে পারে; কিন্তু নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা পারলে নিশ্চয়ই অভিশাপ দিতেন এই অক্টোবর-নভেম্বরের বৃষ্টিকে। কারণ এমনই স্যাঁতসেঁতে এক অক্টোবরে, আজ থেকে বছর তিনেক আগে এই বাংলাদেশ থেকে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা নিয়ে ফিরেছিল এই নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের জন্য যতোই তেতো হোক; ২০১০ সালের সেই ওয়ানডে সিরিজ এখনও বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের এক সিরিজ হয়ে আছে। এই স্বপ্নের মতো স্মৃতি নিয়েই আগামী পরশু থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু করবে মুশফিকুর রহিমের দল। ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার ও ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। এরপর সিরিজের শেষ ওয়ানডে হবে ৩ নভেম্বর ফতুল্লায় এবং সফরের শেষ ম্যাচে মিরপুরেই একমাত্র টি-টোয়েন্টি খেলবে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি নিয়ে ভাবনার আগে এখন নিশ্চয়ই দুই দলের চোখ জুড়ে ওই ওয়ানডে নিয়ে চিন্তাভাবনা। আসলে চিন্তাভাবনাটা দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই দলের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সেদিনই দুই দলের অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলনে বলে গেছেন, রোমাঞ্চকর এক সিরিজের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। নিউজিল্যান্ড অবশ্য ‘রোমাঞ্চকর’ ভেবেই সন্তুষ্ট থাকতে চাইবে। কারণ, নিউজিল্যান্ডের দিক থেকে দেখলে বলতে হয়, তাদের ‘ফাঁড়া’ এখনও শুরুই হয়নি। টেস্টে বাংলাদেশ যে নিউজিল্যান্ডকে বিপাকে ফেলবে, জয়ের স্বপ্ন দেখবে; এটা বাংলাদেশের প্রত্যাশা থাকলেও নিউজিল্যান্ডের নিশ্চয়ই খুব হিসাবে ছিল না। তারপরও সেটা ঘটেছে। কিন্তু ওয়ানডেতে ব্যাপারটা একেবারেই বিপরীত। অন্তত এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিউজিল্যান্ডের জন্য। এমন না যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ চিরকালই ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ এ যাবত্ ম্যাচ খেলেছে ২১টি। এর মধ্যে ২০১০ সালের ওই সিরিজের আগে খেলা ১৭টি ম্যাচের ১৬টিতেই জিতেছিল নিউজিল্যান্ড; কিন্তু এই একপেশে পরিসংখ্যানকে একেবারে পাশার দানের মতো উল্টে দেয় বাংলাদেশ ২০১০ সালে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে একটি বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। বাকি চার ম্যাচে মূলত সাকিব আল হাসানের দুরন্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কাছে সবগুলোতে হেরে বিদায় নেয় নিউজিল্যান্ড। এখানে স্মরণযোগ্য ব্যাপার হল, সেই সিরিজে নিউজিল্যান্ড এসেছিল তাদের তখনকার সেরা দল নিয়ে; বাংলাদেশ বরং মিস করেছিল ইনজুরিতে থাকা তামিম ইকবালকে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ‘চিরশত্রু’ ড্যানিয়েল ভেট্টোরিও পারেননি দলকে বাঁচাতে। এবার সে ভেট্টোরি বা গাপটিল দলে নেই। নিউজিল্যান্ডের জন্য একমাত্র আশার খবর হল, টেস্ট দলে না থাকা পেসার টিম সাউদি ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরবেন সম্ভবত। উল্টোদিকে সেই সিরিজে না থাকা তামিম দারুণ ফর্মে থাকা অবস্থায় খেলবেন এবারের ওয়ানডে সিরিজ। সাকিব মাঝে কিছুদিন নিজেকে খুঁজে ফিরলেও এই দুই টেস্ট দিয়েই ফর্মে ফিরছেন। এদিকে বাংলাদেশ এই সময়ে মোমিনুল হক, সোহাগ গাজীর মতো পারফরমারকে পেয়ে গেছে। দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আছেন দারুণ ফর্মে। এমনকি টেস্টে ব্যর্থ এনামুল হক বিজয়ও ওয়ানডেতে বেশ ফর্মে আছেন। সব মিলিয়ে খেলাটা মাঠের বাইরে কাগজে-কলমে হলে বাংলাদেশকে জয়ী ঘোষণা করে দেয়া যেত। কিন্তু খেলা শেষ পর্যন্ত হবে ৭০ গজের মাঠে। এসব হিসাব পাশে রেখে সেখানে পারফর্মই করতে হবে। এখন দেখার বিষয়, সেই পারফরম্যান্সে হিসাবের প্রতিফলন বাংলাদেশ ঘটাতে পারে কিনা।