ফার্গুসনকে শ্রদ্ধাই করছেন বেকহ্যাম
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:০৯
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ছোঁড়া ইটের বিপরীতে ডেভিড বেকহ্যাম কি পাটকেল ছোঁড়েন সেটা শোনার জন্য হয়তো তৈরি হয়েছিলেন অনেকেই। তবে এই সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার হতাশই করেছেন তাদের। ফার্গুসনকে পাল্টা আঘাত হানা দূরে থাক, সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচকে বেকহ্যাম ভাসিয়েছেন শ্রদ্ধা আর প্রশংসার বৃষ্টিতে। ’৯৮ বিশ্বকাপে লাল কার্ড পাওয়ার সেই ঘটনার পর স্যার অ্যালেক্সই তার ক্যারিয়ারকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন বলে দ্য টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন এই স্টাইলিশ মিডফিল্ডার।
ফ্রান্স বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ডিয়েগো সিমিওনিকে ফাউল করার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখতে হয় বেকহ্যামকে। আর ম্যাচে হেরে ইংল্যান্ড বিদায় নেয় টুর্নামেন্ট থেকেই। হঠাত্ করেই নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হন বেকহ্যাম। সমর্থকদের দুয়ো থেকে শুরু করে তার দিকে ধেয়ে আসতে থাকে মৃত্যুর হুমকিও। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচগুলোতে দর্শকদের এই দুয়োর মাত্রা ছিল আরো বেশি।
নিজের মুখেই সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন বেকহ্যাম, ‘হঠাত্ করেই আমি দেশের অন্যতম ঘৃণ্য ব্যক্তিতে পরিণত হলাম। পরের মৌসুমে আমার প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ ছিল ওয়েস্টহ্যামের বিপক্ষে। আমার মনে আছে, চারপাশে পুলিশের সহায়তা নিয়ে আমাকে স্টেডিয়ামে যেতে হয়েছিল। টিম বাসে আমাদের চারপাশে যে মানুষগুলো দাঁড়িয়েছিল তাদের মুখে ছিল রাগের ছায়া। আমাকে উত্ত্যক্ত করতে মাঝ রাতে বাড়ির পাঁচিল ডিঙ্গিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনাও ছিল। ছিল মৃত্যুর হুমকিও।’
জীবনের কঠিন এই সময়ে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন রেড ডেভিল বস স্যার অ্যালেক্স। আর তাই তার প্রতি কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই বেকহ্যামের, ‘স্যার অ্যালেক্স সত্যিই অসাধারণ। লাল কার্ডের ঐ ঘটনার পর সে আমাকে যেভাবে সমর্থন যুগিয়েছে সেটা অসাধারণ। আমি কৃতজ্ঞ ইউনাইটেড ভক্তদের কাছেও।’
ঐ ঘটনা তাকে মানসিকভাবে আরো শক্তিশালী এবং পরিপক্ক করে তুলেছে জানিয়ে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেই তারকা আরো বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, এই ঘটনাটা আমার জন্য ইতিবাচকই ছিল। এটা আমাকে আরো শক্তিশালী করে তুলেছে। যখন মানুষ আপনার সমালোচনা করবে তখন আপনি হাল ছেড়ে না দিয়ে আরো পরিশ্রম করবেন।’
এ সপ্তাতেই প্রকাশিত আত্মজীবনীতে ফার্গুসন বলেছিলেন, ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্যারিয়ারের শেষের দিকে বেকহ্যাম মাঠের চাইতে মাঠের বাইরের বিষয়গুলো নিয়েই বেশি চিন্তা করতে শুরু করেছিলেন। ফুটবলের চাইতে খ্যাতির নেশা পেয়ে বসেছিল তাকে। এক পর্যায়ে নিজেকে ফার্গির চাইতে গুরুত্বপূর্ণও ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি। আর ঘটতে শুরু করেছিল ১৯৯৯’র শুরুতে স্পাইস গার্লস সদস্য ভিক্টোরিয়াকে বিয়ে করার পরই।
বেকহ্যাম অবশ্য তার নতুন বই ‘ডেভিড বেকহ্যামে’ বলেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফার্গুসনকে একরকম ভয়ই পেতেন তিনি।