তারেক রহমানের আইএসআই কানেকশন!

বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু গোয়েন্দা তথ্য হাতে পেয়ে দিল্লির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের কার্যকলাপ। ভারতের একটি বহুল প্রচারিত পত্রিকায় গতকাল শনিবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই পুরোদস্তুর সাহায্য-সহযোগিতা করে চলেছে লন্ডনের এডমন্টনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তারেক ও তার দলবলকে। একই সঙ্গে উপমহাদেশে সক্রিয় মৌলবাদী ও জঙ্গি নেতাদের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলেছেন বিএনপির এই নেতা। গোয়েন্দা সমন্বয়ের মাধ্যমে দিল্লির হাতে আসা এইসব তথ্যের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট তৈরি করে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের কাছে। লন্ডন থেকে ঢাকা, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় করা তারেকের যাবতীয় ফোন কলের রেকর্ডও বাংলাদেশের গোয়েন্দারা দিল্লিকে দিয়েছেন। সেই ‘কল লিস্ট’ খতিয়ে দেখছেন দিল্লির কূটনৈতিক কর্তারা। রিপোর্টে বলা হয় -ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র। সেখানে কোন দল ক্ষমতায় আসবে, বাংলাদেশের মানুষই তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়নির্ধারণ করবেন। কোনও বিশেষ দলের প্রতি নয়াদিল্লির পক্ষপাতের প্রশ্ন নেই। বিরোধী নেত্রী হিসেবে দিল্লি সফরে আসা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এবং তত্কালীন কেন্দ্রের শীর্ষ মন্ত্রী প্রণব মুখার্জী। শাসক দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের তাতে গোষ্মা হলেও দিল্লি আমল দেয়নি। কিন্তু ভারতের উদ্বেগের কারণটা অন্য। গোয়েন্দা তথ্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশে ক্ষমতায় ফিরতে আইএসআই ও মৌলবাদী শক্তির সাহায্য নিচ্ছেন তারেক রহমান। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগের বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে আইএসআইয়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশ কার্যত মৌলবাদীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত শুধু বাংলাদেশের প্রশাসনকেই চ্যালেঞ্জ জানায়নি, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তুলেছিল। ভারত-বিরোধী নানা জঙ্গি গোষ্ঠীকেও বাংলাদেশের মাটিতে ঘাঁটি গাড়তে দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত সরকার। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, খালেদা জিয়া দিল্লিতে এসে অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন, ফের ক্ষমতায় এলে অতীতের সেসব ভুল তাঁর দল আর করবে না। কিন্তু তারেকের কার্যকলাপ মোটেই তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিএনপির মুখপাত্র তথা কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম অবশ্য মনে করেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেকের জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়েই এই সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কুত্সায় নেমেছে। তিনি মেরুদণ্ডের চিকিত্সার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। পড়াশোনাও করছেন। আইএসআই বা জঙ্গি শক্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই।’ দিল্লি সূত্রে বলা হচ্ছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে কুটনৈতিক স্তরে ঢাকার সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক অফিসারের মন্তব্য, ‘বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্পর্শকাতরতার বিষয়গুলি বিবেচনায় রেখেই দিল্লি যা পদক্ষেপ গ্রহণ করার সেটা করবে।’