বেশি দামে চামড়া কিনে ব্যবসায়ীরা বিপাকে
ওয়াদুদ আলী, রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫০
প্রায় ৩০ কোটি টাকার চামড়া বিক্রি করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রংপুর বিভাগের আট জেলার প্রায় ১ হাজার চামড়া ব্যবসায়ী। এখানকার ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন প্রায় ১’শ কোটি টাকার ওপরে। বেশি দামে চামড়া কিনে ট্যানারী মালিকদের কাছে তা বিক্রি করতে গিয়ে কম দাম দেখে তারা বিপাকে পড়েন। ঢাকার ট্যানারী মালিকরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা।
চামড়া ব্যবসায়ীরা ফড়িয়া দালাল, ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদেরও এ ব্যাপারে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, ফড়িয়া দালালরা ট্যানারী মালিকদের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া ক্রয় করেছেন। ফলে ব্যবসায়ীসহ আড়তদাররাও তাদের কাছ থেকে বেশি দামে চামড়া কিনতে বাধ্য হয়েছেন। আড়তদাররা বলছেন, ট্যানারী মালিকরা দাম না বাড়ালে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হবে তাদের।
রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান ও হাজীপাড়া ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলম অভিযোগ করেন, ঢাকার ট্যানারী মালিকরা রংপুরের চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রায় ২শ’ কোটি টাকা পরিশোধ না করেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। পাওনা টাকা আদায় করতে না পারায় এবং ফড়িয়া-দালালদের কাছ থেকে চড়া দামে চামড়া কিনে ট্যানারী মালিকদের কাছে কম দামে তা বিক্রি করতে গিয়ে চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে মহাজনদের। সব মিলিয়ে রংপুর বিভাগে প্রায় ৩০ কোটি টাকার চামড়া অবিক্রীত অবস্থায় রয়ে গেছে।
সমিতিসূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে পুঁজি সংকটের কারণে জেলার প্রায় দেড়’শ চামড়া ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন। ৫০টি চামড়ার আড়তে এখন অটোবাইকের শোরুম করা হয়েছে। ঢাকার ট্যানারী মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়ার দাম কমিয়ে ভারতে চামড়া পাচারের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যাবসায়ীরা।
পাচারের অভিযোগ
এদিকে ভারতীয় মাড়োয়ারীরা রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে এদেশের ফড়িয়া-দালালদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চামড়া কিনে তা পাচার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এবার ছাগলের চামড়াই বেশি পাচার হচ্ছে বলে সমিতিসূত্রে জানা গেছে।
তবে বিজিবি রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. ওয়াহেদুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঈদের আগ থেকে গত ৭ দিন ধরে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে। কোন অবস্থায় চামড়া পাচারের সুযোগ নেই। আরও ৭ দিন এই বাড়তি সতর্কতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।