সৃজনশীল প্রশ্নে ভালো করতে প্রয়োজন মূলবই চর্চা ও বুদ্ধি প্রয়োগ

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, বাংলা প্রথমপত্রে ভালো করার জন্য আমরা যে বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি তাহলো : খাতার সৌন্দর্য রক্ষা, বানানের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ, বাক্যগঠনে তত্ত্বভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন, অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা ভাষা বর্জন, কাটাকাটি যতদূর সম্ভব না করা, অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন থেকে বিরত থাকা, প্রশ্নোত্তরে স্বচ্ছতা রাখা, সৃজনশীলের ক্ষেত্রে উদ্দীপক ও পাঠ্য বইয়ের সমন্বয় সাধন, সর্বোপরি নির্ভেজাল তথ্যসমেত গঠনমূলক বিশ্লেষণ। তোমার আত্মবিশ্বাসে লেখলেই ভালো করা যাবে। সৃজনশীল অংশ : সৃজনশীল একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া তাই এখানে ভয়ের কিছুই নেই। ভয় বা ভীতি নয়, মানসিক মনোবল তোমাকে পরীক্ষায় ভালো করাবে। তোমরা জানো, সৃজনশীল প্রশ্নে পাঠ্য বইয়ের পাঠ সম্পর্কিত অন্য একটি চমত্কার উদ্দীপক থাকে; যাকে দৃশ্যকল্প বা অনুচ্ছেদও বলা হয়ে থাকে। অনুচ্ছেদের মূল ভাবনা থেকেই জ্ঞানভিত্তিক ১০ নাম্বারের চারটি প্রশ্ন সাজানো হবে যেগুলো হলো : (ক) জ্ঞানমূলক (১), (খ) অনুধাবনমূলক (২), (গ) প্রয়োগমূলক (৩) ও (ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক (৪)। কিন্তু তোমদের জানতে হবে এই ১০ নাম্বারের মধ্যে সৃজনশীল অংশে ১০টি অংশ রয়েছে। ক. জ্ঞানমূলক অংশ : প্রদত্ত নাম্বার-১ [পাঠ্য বই হতে এক কথায় বা এক বাক্যে সঠিক উত্তর দিবে; এখানে কোনো বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণের দরকার নেই এখানে তুমি মোট ০৩ বাক্যের সর্বোচ্চ আলোচনার সুযোগ পাবে] খ. অনুধাবনমূলক : প্রদত্ত নাম্বার-২ (১+১) [অংশ দুটি : জ্ঞানমূলকে-১ চিন্তন বিশ্লেষণে-১। *প্রশ্নে যা চাইবে এক কথায় উত্তরের আসলবস্তু জ্ঞান আকারে লিখবে আর *দ্বিতীয় প্যারাতে বিশ্লেষণ করে সেটা সর্বোচ্চ ৩-৪ বাক্য হলে ভালো হয়। এখানে কেন, কী বোঝ, কথাটি ব্যাখ্যা করো, কথাটির অর্থ কী, কী বোঝানো হয়েছে ইত্যাদি ভাষায় প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়। অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় আলোচনা না করে সরাসরি উত্তরের মূল উত্তর ও তার ব্যাখ্যা করবে।] গ. প্রয়োগমূলক অংশ : প্রদত্ত নাম্বার-৩ (১+১+১) [এখানে তোমাকে তিনটি অংশ বা প্যারা করে লিখতে হবে। অংশগুলো হলো : * উত্তরের শুরুতেই প্রশ্নে চাওয়া মূল উত্তর নির্দেশ করবে *দ্বিতীয় প্যারাতে প্রশ্নমোতাবেক উদ্দীপক ও পাঠ্যের সম্পর্কগত বিষয় ধরে চিন্তন শক্তি ব্যাখ্যা করবে *তৃতীয় প্যারাতে উদ্দীপক ও মূল পাঠ্যের বা মূল পাঠ্যের সাথে উদ্দীপকের সম্পর্কগত আলোচনা করবে। মনে রাখা দরকার প্রয়োগ হলো উদ্দীপকের পরিস্থিতি ও জ্ঞানের আলোকের সন্ধান বিশেষ অর্থাত্ উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের সঙ্গে পাঠ্য বইয়ের কোন দিকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ তা খুঁজে বের করতে হবে। এই সামঞ্জস্যপূর্ণটিকে ধারনাপূর্বক ব্যাখ্যা করবে এবং পরে পাঠ্যের আলোকে মূল বিষয়টি তুলনামূলক আলোচনা করবে। ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক : প্রদত্ত নাম্বার-৪ (১+১+১+১) [এখানে তুমি চারটি অংশ বা প্যারা করে লিখতে পারো। অংশগুলো হলো : *উত্তরের শুরুতেই প্রশ্নে চাওয়া মূল উত্তর নির্দেশ করবে *দ্বিতীয় প্যারাতে প্রশ্নমোতাবেক উদ্দীপক ধরে চিন্তন শক্তি ব্যাখ্যা করবে *তৃতীয় প্যারাতে উদ্দীপক ও মূল পাঠ্যের অথবা পাঠ্য ও উদ্দীপকের সম্পর্কগত আলোচনা করবে *চতুর্থ প্যারাতে সার্বিক বিশ্লেষণ করবে সেক্ষেত্রে উদ্দীপক, মূলপাঠ্য বিষয় ও পারিপার্শ্বিক জীবন ব্যবস্থার সাথে মিল রেখে তোমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারো। বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : মোট প্রশ্ন ৪০ মোট নাম্বার ৪০ সময় ৪০মি. গদ্যাংশ ১৫ কবিতাংশ ১৫ আনন্দ পাঠ ১০ তোমাদের তিনটি স্তর পার করে তবেই মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। মূল বই বারবার পড়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইনের নিচে দাগ দিয়ে রাখবে। বর্তমান ক্যাটাগরিতে যে তিনটি স্তর তোমাদের পার করতে হবে তাহলো : (ক) সাধারণ বহুনির্বাচনি অংশ : এ অংশ জ্ঞানভিত্তিক স্মৃতি নির্ভর। এক্ষেত্রে প্রশ্নগুলো কখনো প্রশ্ন আকারে আবার কখনো অসম্পূর্ণ বাক্য হিসেবে দেওয়া থাকে যা উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। বিকল্প উত্তর ৪টি, যার মাত্র একটি সঠিক। এ বিভাগে জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা এ ৪টি উপবিভাগ বিদ্যমান থাকে। (খ) বহুপদী সমাপ্তিসূচক প্রশ্ন :এ অংশ জ্ঞানভিত্তিক স্মৃতি নির্ভর নয়। পরীক্ষা ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি আমাদের দেশে নতুন। এ ধরনের প্রশ্নে শুরুতে ৩টি তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন থাকে। এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরে ৪টি প্রশ্ন তৈরি করা হয়, রোমান বর্ণে বরাদ্ধ এ প্রশ্নে অনেক সময় একাধিক উত্তর থাকে যার উত্তর প্রদত্ত চারটি প্রশ্নে বিদ্যমান। এ স্তরে অনুধাবন, প্রয়োগ, উচ্চতর দক্ষতা যাচাই করতে হয়। (গ) অভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন : এখানে একটি উদ্দীপক পাবে, যার মাধ্যমে তোমাকে তথ্য সরবরাহ করা হবে। প্রশ্নগুলোর সাথে একে অপরের মিল দেখতে পাওয়া যাবে। ভয় পাবে না—ভাবলেই দেখবে এখানে সাধারণ বহুনির্বাচনি বা বহুপদী সমাপ্তিসূচক প্রশ্নই হয়ে থাকবে।