এ গি য়ে যা ও য়া না রী

‘দেশের দশের মধ্যে একজন হবে’

সৈয়দা রেহানা ইমাম বাংলাদেশ গার্লস গাইড এর বর্তমান নির্বাচিত ন্যাশনাল কমিশনার। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি ব্যাংকিং পেশায় ছিলেন। এদেশে বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় এক্সিকিউটিভ পদে তার সময় তিনি ব্যতীত কোন নারী কাজ করেনি এমনটাই সকলের ধারণা। কিন্তু প্রচার-প্রসার আর এ নিয়ে তেমন অহমিকা তার ছিল না বলে বিষয়টি অনেকের অজানা। রেহানা পেশাজীবন আর সংসার জীবন নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে এসব নিয়ে ভাবনার অবকাশ তার ছিল না। তিনি জানান, ছেলেবেলা থেকে পরিশ্রম, সততা এবং নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে বেড়ে ওঠার শিক্ষা পান বাবা-মা’র কাছ থেকে। যশোর শহরে সরকারি কর্মকর্তা বাবা সৈয়দ আলী ইমাম ও মা রওশন আরা ইমামের ৬ মেয়ে এক ছেলের মধ্যে রেহানা ৪র্থ ছিলেন। তাদের বাড়ির নিয়মানুবর্তিতার সুনাম ছিল পরিচিত জনের কাছে। যশোরের তত্কালীন মোমেন গার্লস হাই স্কুল ও যশোর সরকারি এম এম কলেজে পড়াশুনা শেষ করে তত্কালীন ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে অফিসার পদে যোগ দেন। পরে যা উত্তরা ব্যাংক হয়। কর্মজীবন শেষ করেন একই ব্যাংকের প্রধান শাখার কর্পোরেট বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে। বিশ্বাস, পেশাগত দায়িত্ব আর ২ ছেলের সংসার পুরোটাই সামলেছেন রেহানা। স্বামীর এক্ষেত্রে সহযোগিতা তেমন ছিল না বললেই চলে। শ্বশুর বাড়ির লোকও ছিলেন নিরব। তবে তিনি মনে করেন সময়জ্ঞান আর নিয়ম মেনে চললে সব দায়িত্ব সমানভাবে পালন করা যায়। নিজের সততাকে সন্তানদের মধ্যে প্রতিফলিত করেছেন। আজ সন্তানরা সত্যভাষী হওয়ায় মাঝে-মধ্যে বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হন বলে উল্লেখ করেন রেহানা। তিনি বলেন, নারীরা কম্প্রোমাইজ আর সেক্রিফাইজের প্রতীক। আমাদের সময় অনেক বিশ্বস্ত মানুষ ছিল বলে মায়েদের কিছু সহযোগিতা হত। আজ এমন মানুষের অভাবে নারীদের অনেক সমস্যা হয়। তিনি মনে করেন, নারীরা আজ নিজের কথা ভাবতে শিখেছে। এটা ভাল তবে নিজের কথা ভাবতে গিয়ে নিজের সন্তান আর সংসার সে যেন উপেক্ষা না করে এমন পরামর্শও দেন তিনি। ছেলেবেলা থেকে গার্ল গাইড এর সদস্য রেহানা ইমাম মনে করেন একজন মানুষকে দেশের দশের মধ্যে একজন হতে হয় যাকে সবাই সম্মান করে আর অন্যের গলগ্রহ যাতে না হতে হয়। এটা ছেলেবেলায় বাবার কাছ থেকে শেখা।