মজিলার প্রতিনিধি তানহা
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৪৬
তানহা ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ার বিষয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী সম্প্রতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মজিলার বাংলাদেশে প্রথম নারী প্রতিনিধি। মজিলার স্বেচ্ছাসেবামূলক মজিলা রেপস-এর বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত তিনি নবম প্রতিনিধি।
তথ্য-প্রযুক্তিতে উত্তরোত্তর উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, বিশেষত নারী শিক্ষার্থীরাও যে আগ্রহী তা নতুন করে আর একবার প্রমাণ করলেন তানহা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশ থেকে মজিলার প্রথম নারী প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষিত হন তানহা। প্রসঙ্গত, ওয়েব সাইট দেখার জনপ্রিয় সফটওয়্যার ফায়ারফক্স এবং একই নামের অপারেটিং সিস্টেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হলো মজিলা।
তানহার সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই তার আইটি বা তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা ছিল, প্রযুক্তির নানা ব্যাপারে তার আগ্রহের শুরুটাও বেশ আগে থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর এ বছর মার্চের দিকে বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় যুক্ত হন মজিলার বিভিন্ন কার্যক্রমে, অংশ নেন নিজ ক্যাম্পাসে মজিলার দুটি টেকনলজি ইভেন্ট সেশনেও। মজিলা রেপসের পাশাপাশি তানহা ফায়ারফক্সের আঞ্চলিক বিপণন দূত হিসেবেও কাজ করছেন।
মজিলা সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেল তানহার কথায়, জানালেন নারী কর্মীদের জন্য মজিলার বিশেষ এক প্রোগ্রামের ব্যাপারে। মজিলার এ প্রোগ্রাম মূলত উইমেন ইন মজিলা নামে পরিচিত। মজিলার সাথে সংযুক্ত যে কোন নারী কর্মী এর সাথে সরাসরিভাবে যুক্ত হয়ে যান। নারী সমাজকে তথ্য-প্রযুক্তিতে আরও আগ্রহী করার জন্য তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ারও উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোন এক অজানা কারণে সাধারণত প্রযুক্তি ব্যবহার কিংবা এর ব্যাপারে আগ্রহের প্রশ্নে নারীরা যেন সব সময়ই সামান্য পিছিয়ে, আমাদের লক্ষ্য নারী সমাজকে মজিলার বিভিন্ন কাজে আরও বেশি করে অংশগ্রহণে আগ্রহী করে তোলা, পুরুষদের সাথে সাথে নারীরাও যেন সমান তালে এগিয়ে চলে আমাদের কার্যক্রমে। তরুণ থেকে শুরু করে মধ্যবয়সীরাও ঘরে বসেই যুক্ত হতে পারেন মজিলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে, করতে পারেন বিভিন্ন অনুচ্ছেদ লিখন, অনুবাদ কিংবা লোকালাইজেশন এর কাজ।’
স্বনামধন্য এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়াটা যেমন সম্মানের তেমনি দায়িত্বের পরিমাণটাও যেন বেড়ে গেছে এক মুহূর্তেই তানহার। প্রতিনিধি হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব মজিলাকে এবং এর বিভিন্ন কার্যক্রমকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা, বিভিন্ন নতুন প্রোগ্রাম ও সুবিধাদির প্রচারণায় অংশ নেয়া। আবার দায়িত্বের সাথে সাথে পাচ্ছেন নানারকম সুযোগ-সুবিধাও। মজিলা নিজ খরচে প্রতিনিধি দলকে ঘুরিয়ে এনেছে তাদের সম্মেলনে, পরীক্ষার কারণে তানহা অবশ্য তাতে অংশ নিতে পারেননি।
মো. মমিনুল ইসলাম এবং শারমিন সুলতানার সন্তান তানহা ইসলাম তিন ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ আর উচ্চমাধ্যমিকে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হন বেশ ভাল ফলাফল নিয়েই। প্রযুক্তিতে বিপুল আগ্রহী মেয়ের এখন দিন কেটে যাচ্ছে নিজের পড়াশোনার সাথে সাথে কোডিং, গ্রাফিক্স এসব নিয়ে। তাতে আপত্তি নেই গর্বিত বাবা-মায়েরও।
ভবিষ্যতে মজিলাকে নিজ দেশে আরও বেশি করে প্রচার করা, নারীদেরকে মজিলার বিভিন্ন কাজে আগ্রহী করানোই এই মুহূর্তে তানহার মূল চিন্তা। বিশ্ব দরবারে গর্বের সাথে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে শক্ত অবস্থান তৈরি করবার জন্য তথ্য-প্রযুক্তির নিত্যনতুন আবিষ্কার আর প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত রাখতে চান নিজেকে সামনের দিনগুলোতে। আর এক্ষেত্রে সঙ্গী হিসেবে আরও বেশি করে চান এদেশের নারী সমাজকে।