ঋণ দিন দারিদ্র্য দূর করুন
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৪
দারিদ্র্য দূর করা আজ এমন কোনো কঠিন কাজ নয়। সম্প্রতি কুমিল্লা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রতাপপুর গাঁয়ে গিয়ে অবাক হতেই হলো। এক সময় যাদের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ তারাও ঋণ নিয়ে গাভী পালন, মাছ চাষ, সবজি চাষ, সেলাই নয়তো অন্য কোনো কাজে সম্পৃক্ত হয়ে সচ্ছল হয়েছেন। তারা জয় করেছেন দারিদ্র্যকে। বিউটি আক্তার জানালেন, কুমিল্লার পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের ঋণ নিয়ে লেয়ার অর্থাত্ ডিম পাড়া মুরগির খামার স্থাপন করেছেন। অবশ্য এ কাজটি করেছেন দু’জনে মিলে। অন্যজন হলেন প্রতিবেশী তাসলিমা। দু’জনই আজ দূর করেছেন তাদের নিজ নিজ সংসারের অভাব-অনটন। মুরগির ডিম বিক্রি করে প্রতি মাসে বিউটি আক্তারের লাভ থাকছে ১৫ হাজার টাকা। তাসলিমারও লাভ হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া মাছ চাষ করে, মাছ বিক্রি থেকে কিংবা সেলাইয়ের কাজ করেও তাসলিমা প্রতি মাসে উপার্জন করছেন প্রায় ১০ হাজার টাকা।
প্রতাপপুর মহিলা সমিতির ১৫ জন সদস্যের মধ্যে প্রত্যেকেই সবজি বাগান করেছেন, কলার চাষ, মাছ চাষ ছাড়াও করেছেন গাভী পালন। সদস্য জরিনা আক্তার চারটি গাভী পালন করে প্রতিদিন পাচ্ছেন ১৩ কোজি দুধ। গাভী পালনের খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে গাভীর দুধ বিক্রি থেকে লাভ থাকে ১২ হাজার টাকা। অবাক হতে হলো প্রতাপপুরের পাশের গ্রাম শ্রীমন্তপুরে গিয়েও। সেখানেও ১৭ জন মহিলা সদস্য গড়েছেন মহিলা সমিতি। তারাও পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সহযোগিতা ও ঋণ পেয়ে মাছ চাষ, গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ কর্মসূচি হাতে নিয়ে দেখেছেন সাফল্যের মুখ। খুরশিদ, কোহিনুর, রাজিয়া, জহুরা এবং আরো অনেকে গাভী পালন, মাছ চাষ, সবজি চাষের মাধ্যমে আজ আয়-রোজগার বাড়িয়ে পাকা বাড়ি করেছেন, কিনেছেন ধানী জমি। এক সময় তাদের ছিল বড়ই অভাব। দেশের সর্বত্র এভাবে ঋণ কিংবা উত্সাহ ও সহযোগিতা দিলে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।
লিয়াকত হোসেন খোকন, ঢাকা