সংসদে প্রশ্নোত্তর
লবণাক্ত জমির পরিমাণ ১০.৫৬ লাখ হেক্টর
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫২
বর্তমানে দেশে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ১০ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টর। গত ৪০ বছরে লবণাক্ত জমির পরিমাণ বেড়েছে দুই দশমিক ২৩ লাখ হেক্টর। দুদিন বিরতির পর গতকাল রবিবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এ কথা বলেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সাধনা হালদারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০০০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ জমি নতুন করে লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিলো আট দশমিক ৩৩ লাখ হেক্টর। ২০০০ সালে এর পরিমাণ বেড়ে ১০ দশমিক ২০ লাখ হেক্টর হয়েছে। তিনি আরো জানান, ২০০০ সালের তুলনায় বর্তমানে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমি নতুন করে লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়েছে।
সুকুমার রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী জানান, দেশে উত্পাদিত গম, ডাল ও ভুট্টা দিয়ে চাহিদা পূরণ হয় না। উত্পাদনের পাশাপাশি আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হয়। সরকার চাহিদা পূরণের জন্য গম ও ডালের উত্পাদন বাড়ানোর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি আউশ চাষাবাদের জন্য তিন লাখ ৩২ হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
রাশেদা বেগম হীরার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত সাড়ে চার বছরে সারাদেশে বিনামূল্যে আট লাখ ৮৪ হাজার ২৮৮ জন কৃষককে সার দেয়া হয়েছে। বীজ বিতরণ করা হয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৯২৫ জন কৃষকের মধ্যে। সাড়ে চার বছরে সারাদেশে উপকারভোগী কৃষকের সংখ্যা দুই কোটি তিন লাখ ২৯ হাজার ৯৩০ জন।
খাস জমি ১৮ লাখ একর
এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা জানান, বর্তমানে দেশে খাস জমির পরিমাণ হচ্ছে ১৮ লাখ ২৩ হাজার ৯৪ দশমিক ১০ একর। এরমধ্যে বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমি হচ্ছে চার লাখ ২৬ হাজার ১৪৭ দশমিক ৯৩ একর। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সারাদেশে এক লাখ ৪২ হাজার ৭৩টি পরিবারের মধ্যে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়।
বছরে কাঠের চাহিদা ৬০ লাখ ঘনফুট
এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানান, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৬০ লাখ ঘনফুট কাঠের চাহিদা রয়েছে। নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাজধানীতে দিনে সাড়ে চার হাজার টন বর্জ্যের সৃষ্টি হয়।
ঢাকা সেনানিবাসের সেই বাড়ি
হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ কার্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার জানান, ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনের জমির উপর তিনটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১৫৪ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। তিনটি ভবনে সেনাবাহিনীর ১৫৬ জন সদস্য বসবাস করতে পারবেন।
সশস্ত্র বাহিনীতে নারী
এএন মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীতে এ পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত নারী অফিসারের সংখ্যা এক হাজার সাতজন। এর মধ্যে এএমসি ও এডিসি অফিসার ব্যতীত ২২৯ জন। এএমসি ও এডিসি কোরে নিয়োগপ্রাপ্ত নারী কর্মকর্তা ৩১৪ জন, এএফএনএস ৪৬৪ জন। তিনি আরো জানান, নৌ বাহিনীতে এ পর্যন্ত ৮৫ জন নারীকে নৌ কর্মকর্তা এবং ১১১ জন নারীকে বেসামরিক কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৩১ জন নারী কর্মকর্তা বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২০ জন নারী কর্মকর্তা বিমান বাহিনীর বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে ২৭ জন স্কোয়াড্রন লীডার, ৪৩ জন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট, ২৩ জন ফ্লাইং অফিসার ও ২৭ জন পাইলট অফিসার পদে কর্মরত আছেন। বিমান বাহিনী থেকে ১১ জন নারী কর্মকর্তা অবসর গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও বিমান বাহিনীতে ৮১ জন বেসামরিক নারী কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।