যে কারণে সবচে ‘দামি’ রাজ্য উত্তর প্রদেশ

শিফারুল শেখ

 

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। কেবল জনসংখ্যার দিক দিয়েই এটা পরিচিত নয়। রাজ্যটির ক্ষমতাও অনেক। তাইতো ভারতের এবার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করতে পারবে কি না সেটি নির্ভর করছে উত্তরপ্রদেশের ওপর। গত ১১ মে রাজ্যটিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বানারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অশোক উপাধ্যায়ের মতে, দিল্লির সিংহাসনে বসতে উত্তরপ্রদেশে আপনাকে ভাল করতেই হবে।

কেন ক্ষমতাধর: বলা হয়, উত্তরপ্রদেশে যে দল বেশি আসন পাবে সেই দলই কেন্দ্রে ক্ষমতায় যাবে। কারণ এই রাজ্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে ৯ জন প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। ২০ কোটি মানুষের রাজ্যটিতেই সর্বাধিক ৮০টি লোকসভা আসন আছে। লোকসভায় মোট আসন ৫৪৫টি। গত নির্বাচনে তার মধ্যে ৭৩টিই পেয়েছিল বিজেপি ও তার সঙ্গীরা। আর কংগ্রেস মোট ৪৪টি আসন পেয়েছিল যার মধ্যে উত্তরপ্রদেশের দুটি আসন ছিল। কিন্তু এবার রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে বিজেপি কতটুকু ধরে রাখতে পারবে তা নিয়ে পর্যবেক্ষকরা রীতিমতো সন্দিহান।

গত নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি বিরোধী ভোট অন্তত তিন ভাগে ভাগ হয়েছিল। এবারের নির্বাচনী পাটিগণিতের ওই সুবিধাটা বিজেপি পাচ্ছে না। দিল্লিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোমা চৌধুরীর মতে, বিজেপি সরকার গড়তে পারবে কি না সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু উত্তরপ্রদেশেই হয়ে যাবে। সমাজবাদী আর বহুজন সমাজ পার্টি মিলে ঐক্যজোট করাতে বিজেপি অন্তত ৩০টি আসন হারাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বাস্তবতাই বলে দিচ্ছে বিজেপি উত্তরপ্রদেশে মোটেই স্বস্তিতে নেই। তার ওপর গোটা রাজ্যজুড়ে চষে বেড়িয়েছেন কংগ্রেসের নতুন তারকা প্রিয়াংকা গান্ধী। বিজেপির জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ পুরানো শত্রুতা ভুলে মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের হাত মেলানো। অখিলেশ বারবারই বলছেন, বিজেপির অহঙ্কার ভাঙতেই তাদের দুই দল সমঝোতা করেছে। দলিতদের রানি বলে খ্যাত এবং চারবারের মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীও বলেছেন, আমাদের জোট বিজেপিকে এবার হারানোর ক্ষমতা রাখে।

সোমা চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সাফল্যের রহস্য ছিল এমন এক সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং যাতে সব ধর্ম-বর্ণ-জাতের ভোটই তারা বেশ কিছুটা পেয়েছিল। মানুষ ভোট দিয়েছিল নতুন আশায়। এবার হয়তো মোদি পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারছেন না। দলিত-যাদব ভোট পাচ্ছেন না। ব্রাহ্মণ ভোট কমছে। গতবার বিজেপি কিছু মুসলিম ভোট পেলেও এবার পাবে না। পাঁচ বছর আগেই নিজের রাজ্য গুজরাট ছেড়ে নিজেকে উত্তরপ্রদেশের এমপি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মোদি। তার রাজনীতিতে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে নিজের সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসী ও গঙ্গা নদীর বিরাট ভূমিকা রয়েছে। বারাণসী হয়তো তাকে এবারো নিরাশ করবে না, কিন্তু বাকি উত্তরপ্রদেশের জটিল নির্বাচনী রসায়নের ওপরই নির্ভর করছে মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যত্। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সুমিত গাঙ্গুলির মতে, এ নির্বাচন অনেক দিক দিয়েই ভবিষ্যতের পথিকৃত্। গত বছরের জুলাইয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায় গরু জবাই নজরদারি কমিটির সদস্যরা দলিত সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে নির্মমভাবে মারধর করছে। ভারতীয় মিডিয়ায় এ ঘটনা ব্যাপক প্রচার পায়। এতে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি বিরাজমান বৈষম্যমূলক ও সহিংস মনোভাব ফুটে ওঠে। এ ঘটনা মায়াবতী ও তার দল বহুজন সমাজবাদী পার্টির জন্য কাজে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।