চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:০৯
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হয়েও র্যাংকিংয়ের কারণে প্রথমপর্ব পার হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য নিজেদেরকে প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশকে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত বলেই ঘোষণা দিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
মুশফিকুর রহিম প্রথম রাউন্ড খেলাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবেই দেখছেন। তিনি বলেন,‘আমরা হতাশ নই। এটা আইসিসির নিয়ম। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এটা নতুন চ্যালেঞ্জই হবে। আশা করি আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী খেললে পরের রাউন্ডে যেতে পারবো।’
প্রথম রাউন্ড, সুপার টেনের পদ্ধতি বাণিজ্যিক ও ক্রিকেটীয় কারণেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার ক্যাম্পবেল জেমিসন। তিনি বলেন,‘এটা সম্পূর্ণ ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত। আইসিসির বোর্ডের সিদ্ধান্ত এটি। র্যাংকিং অনুযায়ী করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন,‘আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে অনেক সময় দেখা গেছে আয়োজকরা ফাইনাল খেলে। আয়োজক দেশ ফাইনাল খেললে টুর্নামেন্টের উত্তেজনা অনেক বেড়ে যায়। গত টি-২০ বিশ্বকাপে আয়োজক শ্রীলংকা ফাইনাল খেলেছে। গত জুনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আয়োজক ইংল্যান্ডও ফাইনাল খেলেছে। আশা করি (মুশফিকের দিকে তাকিয়ে) বাংলাদেশও এবার ফাইনাল খেলবে।’
এই প্রথম আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ মহিলা দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেন,‘আমাদের দেশে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে। আমরা প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবো। আশা করি ভাইয়ারাও (মুশফিকরা) সুযোগ পাবে। আমি দেশবাসী ও আমাদের খেলার ভেন্যু সিলেটবাসীর কাছে দোয়া চাই।’
আইসিসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১২টির বদলে এবার ১৬টি দল অংশ নিতে যাওয়ায় ছেলেদের টুর্নামেন্টের ফরম্যাট বদলাতে হয়েছে।
২০১২ সালের ৮ অক্টোবরের আইসিসি টি-টোয়েন্টির দলীয় র্যাঙ্কিং অনুযায়ী আটটি দেশ সরাসরি সুপার টেন -এ খেলার সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে শীর্ষ আটের বাইরে থাকায় সুপার টেনে যেতে হলে তাদের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা ছয়টি দলের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে হবে। আগামী ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাছাইপর্ব থেকে আসবে এই ছয়টি দল।
প্রথম রাউন্ডের এই আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে, যার দুই শীর্ষ দল সুপার টেনে উঠবে। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো হবে ১৬ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত। প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশ পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে আর জিম্বাবুয়ে ‘বি’ গ্রুপে।
২১ মার্চ ঢাকায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ‘আসল’ বিশ্বকাপ। সুপার টেনের গ্রুপ-১ এ আছে শ্রীলংকা, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও গ্রুপ ‘বি’ থেকে শীর্ষ বাছাই দলটি।
সুপার টেনের গ্রুপ-২ এ আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও গ্রুপ ‘এ’ থেকে শীর্ষ বাছাই দলটি (বাংলাদেশের গ্রুপ)।
বাংলাদেশ যদি সুপার টেনে পৌঁছায় তবে তাদের সবগুলো ম্যাচ হবে ঢাকায়। সুপার টেনে উঠলে বাংলাদেশ ২৫ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২৮ মার্চ ভারত, ২০ মার্চ পাকিস্তান ও ১ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলবে। ছেলেদের বিশ্বকাপে বিজয়ী দল পাবে ১১ লাখ ডলার, রানার্সআপ পাবে ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার।