তীব্র দূষণে শীতলক্ষ্যার পানি কালো হয়ে গেছে
মো. মোসলেম উদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৭
তীব্র দূষণের কবলে পড়েছে শীতলক্ষ্যা। পানির রঙ এখন কালচে। মাছ প্রায় নেই বললেই চলে। এক কথায় মৃত্যুর ছায়া পড়েছে শীতলক্ষ্যার ওপর। নদীর এই দুরবস্থায় দুই পারের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত পানিতে শীতলক্ষ্যার এই করুণ অবস্থা। দুই তীরের অসংখ্য শিল্প-কারখানা থেকে পাইপ, ড্রেন ও খাল দিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত পানি নদীতে পড়ছে সব সময়। ১৯৬৫ থেকে ৬৮ সালের দিকে পাঁচ হাজার আটশ’ ৬০ হেক্টর জায়গা নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকা তৈরি হয়। দিনে দিনে ডিএনডি এলাকার ডেমরা, শ্যামপুর, ফতুল্ল¬া ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন স্থানে প্ল¬াস্টিক, ডাইং, নিটিং, রি-রোলিং, পেপারমিলসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। এ সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য মিশ্রিত পানি সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ পাম্প হাউজের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যায় ফেলা হয়। এ ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে ডিএনডি’র বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হয়। ডিএনডি এলাকা থেকে বর্জ্য মিশ্রিত পানি শীতলক্ষ্যায় ফেলার জন্য রয়েছে খাল ও ড্রেনের সমন্বয়ে একটি নেটওয়ার্ক। অভিযোগ করা হয়েছে, ডিএনডি’র অভ্যন্তরে থাকা মিল-কারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক ও বর্জ্য মিশ্রিত পানি কোন ধরনের পরিশোধন ছাড়াই নিষ্কাশন খালে ফেলা হয়।
পাম্প হাউজ সূত্র জানায়, শীত মৌসুমের চার মাস ডিএনডি প্রকল্পের পানি নিষ্কাশনে পাম্প চালানোর প্রয়োজন হয় না। পাম্প হাউজের গেট খুলে দিলেই বর্জ্য মিশ্রিত পানি অনবরত শীতলক্ষ্যায় পড়ে। এ সময় ঠিক কতটা বর্জ্য মিশ্রিত পানি নদীতে পড়ে তার কোন হিসাব নেই। তবে বছরের বাকি আট মাস অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প চালানো হয়। এ সময় কম-বেশি আট হাজার সাতশ’ ১৪ ঘণ্টা পাম্প চলে। এর মাধ্যমে আনুমানিক ৩৫১ কোটি ঘনফুট বর্জ্য ও রাসায়নিক মিশ্রিত পানি শীতলক্ষ্যায় ফেলা হয়। পাম্প হাউজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, ডিএনডির অভ্যন্তর থেকে নিষ্কাশন খালের বর্জ্য মিশ্রিত পানি ইনটেক খাল দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাসা-বাড়ির ময়লা পানির চেয়ে কল-কারখানার পানি বেশি ক্ষতিকর। এটা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
শিমরাইলস্থ পাম্প হাউজ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাম্প হাউজের নিষ্কাশন খালের মুখে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা স্তূপ জমা পড়ে আছে। ইনটেক খালের মাধ্যমে কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ডিএনডি’র পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। দুর্গন্ধে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে আছে। বিষাক্ত পানির কারণে দিন দিন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মত্স্য প্রাণী উজাড় হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিল-কারখানার মালিকরা তাদের বিষাক্ত বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি ফেলার নিরাপদ স্থান হিসেবে শীতলক্ষ্যাকেই বেছে নিয়েছেন। ফলে ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়ে মরে যাচ্ছে শীতলক্ষ্যা। তারা শীতলক্ষ্যাকে রক্ষার জন্য জোর দাবি জানান।