শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জাম আমদানি
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৮
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে আকাশপথে আসছে অবৈধভাবে বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জাম। একশ্রেণির আমদানিকারক গত ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৯৮টি চালানের মাধ্যমে ৯৪ কোটি টাকার ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জাম আমদানি করেছেন। এজন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়াই চালানগুলো বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট গুদাম থেকে খালাস দেয়া হয়েছে। এসব ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জামের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর গোপনসূত্রে সংবাদ পায় যে, বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট গুদাম থেকে আমদানিকৃত বেশকিছু নিষিদ্ধ ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জামের চালান খালাস দেয়া হয়েছে। ওষুধ প্রশাসনের কোন অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়াই এসব পণ্য আমদানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা উল্লিখিত চালানের ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি নিয়েছিল কিনা তা জানতে চেয়ে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে সম্প্রতি চিঠি দেয়। জবাবে ওষুধ প্রশাসন থেকে জানানো হয় যে, তারা কোন আমদানিকারককে এ ধরনের অনুমতি প্রদান করেনি। কিন্তু অনুমতি ব্যতিরেকে কিভাবে এসব পণ্য বিদেশ থেকে আনা হলো সে প্রশ্নের কোন উত্তর মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ঢাকা কাস্টম হাউজের একশ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব অবৈধ ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জাম আমদানির পর এয়ারফ্রেইট গুদাম থেকে খালাস নেন।
গত ২৩ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মিসরের কায়রো থেকে অবৈধভাবে আমদানিকৃত ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ওষুধ আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ ঘোষণা দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান এসব ওষুধ আমদানি করে। এসব ওষুধ বাংলাদেশে আমদানি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এগুলো শুধু মিসরে বিক্রির জন্য তৈরি বলে বাক্সে উল্লেখ রয়েছে।