নেপালে মাওবাদীরা ফের শক্তি সঞ্চয় করেছে

মু. আ. আলআমিন

 

চলতি বছর ২২ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। নেপালে বহুজাতিক টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি এনসেলের সদর দফতরের প্রধান ফটকের কাছে বোমা বিস্ফোরণে একজন মারা যান এবং দুজন গুরুতর আহত হন। রাজধানী কাঠমান্ডুতে এনসেলের সদর দফতর অবস্থিত। একই দিনে ওই অনেকগুলো টাওয়ার টার্গেট করে কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়।

এই ঘটনার দুদিন পর নেত্র বিক্রম চান্দের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের পক্ষ থেকে বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করা হয়। দেশটির প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে ফোন করে পার্টি জানায়, সরকারকে ঠিকমতো কর না দেয়ার শাস্তি স্বরূপ এনসেলের অফিসে বোমা হামলা করা হয়েছে। পার্টির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, সাধারণ নিরীহ মানুষকে টার্গেট করার কোনো ইচ্ছা তাদের ছিল না। এই ঘটনায় একজন মানুষ মারা যাওয়ায় পার্টি দুঃখ প্রকাশ করে। এনসেল ও এর প্যারেন্ট কোম্পানি আজিয়াটার সরকারের কাছে বকেয়া করের পরিমাণ ৬১ বিলিয়ন নেপালী রুপি (৫৫ কোটি মার্কিন ডলার)। ৬ ফেব্রুয়ারি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই অর্থ পরিশোধ করার জন্য কোম্পানি দুটিকে নির্দেশ দিয়েছিল। এখানে সারচার্জ বা বিলম্ব ফির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। চান্দের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি একে তাদের শক্তি প্রদর্শনের একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। তারা কেবল এনসেলের সদর দফতর বা এর টাওয়ারগুলোতেই হামলা চালায়নি একটি ভারতীয় কোম্পানির নির্মাণাধীন অরুণ ৩ জলবিদ্যুত্ প্রকল্পেও তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল ইউনিফাইড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল মাওয়িস্টের একটি দলছুট অংশ। ইউনিফাইড কমিউনিস্ট পার্টি নেপালে ১৯৯৬ সালে রাজতন্ত্র উত্খাতের দাবিতে গৃহযুদ্ধ শুরু করেছিল। ১০ বছর ধরে চলা সেই গৃহযুদ্ধে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। বহু লোক আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করতে বাধ্য হয়। হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ২০০৬ সালে মাওয়িস্ট পার্টি সহিংসতা ছেড়ে শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়। এরপর পার্টি চারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এদেরই একটি অংশ এখন চান্দের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (সিপিএন)। সিপিএনর নেতাকর্মীরা প্রায় সবাই আত্মগোপনে থেকে তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রায়ই অস্ত্রসহ পার্টি ক্যাডাররা ধরা পড়ছে। বিষয়গুলো ক্ষমতাসীনদের জন্য যেমন অস্বস্তিকর তেমনি উদ্বেগজনক।