রাজধানীতে হরতাল চলাকালে সংঘর্ষ, আটক ৪১
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৯
সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, আগুন ও ভাংচুরের মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের ডাকে টানা তিনদিনের হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ভবনের একটি কক্ষে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দিলে গুরুত্বপূর্ণ ১০/১২টি নথি পুড়ে যায়। ঢাকা জেলা জজ আদালতের পুরাতন ভবনের সামনে থেকেও একটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুরে মিন্টো রোডে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে ককটেল নিক্ষেপ করতে গেলে ককটেল বাহকের হাতেই তা বিস্ফোরিত হয়। এতে সুমন নামক ওই বাহক আহত হয়। যাত্রাবাড়ী এলাকার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দেয়। এদিকে হরতাল পিকেটিংকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪১ জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১১ জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বেলা ২টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নিচতলায় ‘নন জি আর সেকশনের’ কক্ষে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এই কক্ষে নিষ্পত্তি ফাইল রাখা থাকে। আগুনে ১০/১২টি মামলার নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে দায়িত্ব পালনরত পরিচ্ছন্ন কর্মীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন। বেলা ৩টার দিকে ঢাকা জেলা জজ আদালতের সামনে কে বা কারা একটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ অবিস্ফোরিত সেই বোমাটি উদ্ধার করে। এসব ঘটনায় আদালত প্রসঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকাল ৫টার দিকে পুরানা পল্টন এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। এ সময় তারা ২০/২৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
ভোর সোয়া ৬টার দিকে উত্তর যাত্রাবাড়ী থানার বিবিরবাগিচা এলাকায় ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। সকালে ওয়ারিতে পিকেটিংকালে ৪ জনকে আটক করে পুলিশ। বেলা ১১টার দিকে ডেমরা মুক্তি সরণিতে মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় পুলিশ ৯ জনকে আটক করে। বিকাল ৪টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে ৭টি এবং মালিবাগে আবুল হোটেলের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। বিকাল ৩টার দিকে পূর্ব জুরাইনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক অফিসে (খিলগাঁও-৩) দুর্বৃত্তরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আনোয়ার উদ্দিন নামে ওই অফিসের এক কর্মচারী আহত হয়। দুপুর ২টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কে বা কারা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
হরতালে গাবতলীতে বিআরটিসির ডিপোতে ঢুকে ৬টি দ্বিতল বাসে আগুন দেয় পিকেটাররা। ভোর ৪টার দিকে ৭/৮ জন দুর্বৃত্ত দেয়াল টপকে ডিপোর মধ্যে প্রবেশ করে। পরে পেট্রোল দিয়ে ৬টি বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে ২টি দ্বিতল বাস সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুর ভেড়িবাঁধে পাবনা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় পিকেটাররা। সকাল ৬টার দিকে মিরপুর প্রশিকা মোড়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ৭ জনকে আটক করে। একই সময়ে মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্টেডিয়াম এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাংচুর ও স্টেডিয়াম লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়ার চেষ্টাকালে যুবদল ও শিবিরের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন জানিয়েছেন। ভোর ৬টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় হরতালের সমর্থনে তেজগাঁও থানা ছাত্রদল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় একজনকে আটক করে পুলিশ।
মিরপুর মাজার রোডে পুলিশ-ছাত্রদল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের গুলিতে এক ছাত্রদল কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একজনকে আটক করে।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজের মায়ের উত্তরার বাসায় গেটের সামনে দুর্বৃত্তরা রাত পৌনে নয়টায় ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তুরিন আফরোজ বাসায় ছিলেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি বা তার পরিবারের কেউ আহত হননি। তবে তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছেন।