সংবিধানের বাইরে আলোচনায় বসবে না আওয়ামী লীগ
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৬
সংবিধানের বাইরে কোন আলোচনায় বসবে না আওয়ামী লীগ। সংবিধানের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠনসহ যে কোন বিষয়ে যে কোন সময় বিএনপির সঙ্গে আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল রবিবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এ কথা বলেন। হরতালের নামে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবের প্রতিবাদে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। হরতাল চলছে, তারপরও সংলাপ কি সম্ভব—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মতিয়া বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে আলোচনা অপরিহার্য। আমরা কোনো কিছুতেই আশা ছাড়ি না। আমরা আশাবাদী। আমরা দাওয়াত দিয়েছি, এখনো দাওয়াত প্রত্যাহার করে নেইনি। তবে আলোচনার ভিত্তি হবে সংবিধান। সংলাপের জন্য আবার আহ্বান করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন আছে। তবে আমরা ইতিবাচক ধারায় চলতে চাই।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, দুই নেত্রীর ফোনালাপের সময় বিরোধী দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। প্রধনমন্ত্রী যখন বলছিলেন আমি ফোন করে আপনাকে পাইনি। বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন, আপনি মিথ্যা কথা বলছেন। এটা কোন ধরনের শিষ্টাচার আমাদের জানা নাই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দলের নেত্রীর কথা বলার সময় সৌজন্যবোধ দেখা যায়নি। তার কথার মধ্যে শিষ্টাচারের অভাব ছিল। তারপরও প্রধানমন্ত্রী ধৈর্যহারা হননি। চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। মতিয়া চৌধুরী বলেন, ইদানীং বিরোধী দলীয় নেতার সংখ্যার হিসাবের গরমিল হচ্ছে। তার দিন তারিখ ঘণ্টা খেয়াল থাকছে না। ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিরোধী দলের হরতালের কারণে পাসের হার কমছে। বিরোধী দলের ডাকা তিন দিনের হরতালের প্রথম দিনে সহিংসতার বিবরণ তুলে ধরে মতিয়া চৌধুরী বলেন, যশোরে আলমগীর হোসেন নামে যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। বিক্ষিপ্তভাবে ভাংচুর হয়েছে। ট্রেনে হামলা করেছে পিকেটাররা। টিভি সেন্টারে ককটেল নিক্ষেপ করে আহত করা হয়েছে সাংবাদিকদের। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক নিহত ও আহত হয়েছে। এখন দেশে তো কোন যুদ্ধ হচ্ছে না। কেন তারা আহত হবে? আমরা এর নিন্দা জানাই। আর আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাই।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম প্রমুখ।