২৯ অক্টোবরের পর আলোচনায় বসতে চায় বিএনপি

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিতে প্রস্তুত বিএনপি। এজন্য ৬০ ঘণ্টার হরতাল শেষে, অর্থাত্ আগামীকাল ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবারের পর যে কোনোদিন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের অপেক্ষায় দলটি। তবে প্রধানমন্ত্রী শনিবার টেলিফোন করে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তা ২৯ অক্টোবরের পরেও অব্যাহত থাকবে কিনা সে বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার রয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারা আশা করছেন ২৯ অক্টোবরের পর সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেবে। প্রধানমন্ত্রী আবারও আমন্ত্রণ জানালে কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের উদ্যোগ নিলে তাতে সাড়া দেবে বিরোধীদল। তখন বিরোধীদলের পক্ষ থেকে আলোচনায় কী কী বলা হবে, কী কী বিষয়ের ওপর অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হবে, কোন কোন বিষয়ে কিছুটা ছাড় দেয়া সম্ভব-এ নিয়ে ইতোমধ্যে হোমওয়ার্ক করা হচ্ছে। সূত্রমতে, সরকার আলোচনার উদ্যোগ নিলে কয়েকদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত রাখবে ১৮ দল। অন্যথায় আবারও কয়েকদিনের টানা হরতাল ছাড়াও দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। ২৯ অক্টোবরের পরেও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে কিনা, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা রয়েছে বলেই তো তিনি নিজে খালেদা জিয়াকে ফোন করে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। কিন্তু বিএনপি নেত্রী তো কথা রাখেননি, তিনি হরতাল প্রত্যাহার করেননি। প্রধানমন্ত্রী তাকে ২৮ অক্টোবর দাওয়াত করেছেন, তিনি আসবেন না বলে জানিয়েছেন। এখন আবার তাকে দাওয়াত দেয়া হবে কিনা, তা নির্ভর করছে পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর। তাছাড়া এটা দলীয় সিদ্ধান্তেরও বিষয়।’ বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন ও আমন্ত্রণকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। তবে টেলিফোনে আলাপের সময় খালেদা জিয়া বারবারই নির্দলীয় সরকার নিয়ে আলোচনার কথা বলেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খালেদা জিয়াকে কিছুই বলেননি, শুধু বলেছেন- যে কোনো বিষয় নিয়েই আলোচনা হতে পারে। এমনকি আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ভেতরে থেকেই আলোচনার কথা বলেন। কার্যত এ কারণে এবং ১৮ দলীয় জোটের পূর্ব নির্ধারিত হরতাল কর্মসূচি থাকায় আজ ২৮ অক্টোবর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের আমন্ত্রণ তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি বিরোধীদলীয় নেতা। এ ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ২৯ অক্টোবরের পর যে কোনদিন যে কোনো স্থানে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় হরতাল শেষ হওয়ার পরপরই কিংবা ৩০ অক্টোবরও আমরা বসতে রাজি আছি। আমরা আশা করছি- ২৯ অক্টোবরের পর সরকার আলোচনার উদ্যোগ নেবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, আলোচনাটি হতে হবে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে। সে কারণে আমাদের প্রত্যাশা এ ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রী আলোচনার ব্যবস্থা করবেন। এদিকে, ২৯ অক্টোবরের পর বিরোধীদলকে আবারও আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হবে কিনা, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী টেলিফোন করে বিরোধীদলীয় নেতাকে যে দাওয়াত দিয়েছেন তা অব্যাহত থাকবে। ‘নাশকতা’ বন্ধ করে এবং পূর্বশর্ত প্রত্যাহার করে ২৯ অক্টোবরের পর যে কোনদিন যে কোনো সময় বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত গ্রহণ করতে পারেন। তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পর্কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, তিনি (হাসানুল হক ইনু) যে কথা বলেছেন সেটি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বলেছেন, নাকি এটা তার ব্যক্তিগত মতামত, সে ব্যাপারে আমার জানা নেই। তবে ২৯ অক্টোবরের পর বিরোধীদলকে আবারও আমন্ত্রণ জানানো হবে কিনা কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত ২৮ অক্টোবরের পরও অব্যাহত থাকবে কিনা, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমাদের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেই।