নতুন শুরুর অপেক্ষায় নিউজিল্যান্ড

টেস্ট সিরিজের পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন ওয়ানডে সিরিজের লড়াইয়ে সেই স্মৃতি খুব একটা কাজে লাগবে না বলেই মনে করছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। টেস্টের স্মৃতি মুছে নতুন করে ওয়ানডে’র লড়াইয়ের জন্য মুখিয়ে আছে সফরকারী এই অধিনায়ক। আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড দলে আসছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ওয়ানডে স্কোয়াডে এসেছে মোট নয়টি পরিবর্তন। সব মিলিয়ে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে আজ দেখা যাবে ‘নতুন’ নিউজিল্যান্ডকে। কিউই অধিনায়কও নতুন শুরুর দিকেই মুখিয়ে আছেন, ‘অবশ্যই এটা নতুন একটা সিরিজ। আমাদের দলে নতুন বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। আমরা নতুন করে সব কিছু শুরু করতে চাই। আর আমাদের দিক থেকে লক্ষ্য হল আমরা তিনটি ম্যাচেই জয়ের জন্য লড়াই করবো।’ টেস্টে একগাদা পরিবর্তন আনার যথার্থ ব্যাখ্যাও দিলেন ম্যাককালাম, ‘টেস্ট আর ওয়াডের মধ্যে অনেক পার্থক্য। সময়ের সাথে সাথে আমরা টেস্টে ভাল করছি। আমাদের বোলিং আক্রমণটা বেশ ভাল ভাবেই দাঁড়িয়ে গেছে। টেস্টে উইকেট নেয়াটাই অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু ওয়ানডেতে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। এখানে ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ দিতে হয়, উইকেট পেলে তো আরও ভাল।’ তবে, নতুন নয়জন খেলোয়াড় দলে নেয়ার সিদ্ধান্ত এক দিক থেকে ‘বুমেরাং’ হতে পারে নিউজিল্যান্ডের জন্য। কারণ টেস্ট সিরিজ ড্র করার পর এমনিতেই ব্যাকফুটে আছে নিউজিল্যান্ড। তার উপর উমহাদেশীয় কন্ডিশনও বড় একটি ভূমিকা রাখছে। এই অবস্থায় নতুন খেলোয়াড়রা পরিবেশের সাথে কতটুকু মানিয়ে নিতে পারবেন? ম্যাককালামও এটাকে তার দলের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন, ‘আমাদের জন্য এটা সমস্যা হতে পারে। সত্যি এটা আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ। নতুনদের মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হতে পারে। এদের মধ্যে কয়েকজনের আবার উপমহাদেশে এটাই প্রথম সফর। তো তাদের জন্য ব্যাপারটা আরও কঠিন হবে। তাদের নিয়ে আমি আলাদা করে কাজ করছি। আমরা কয়েকজন বেশ কদিন ধরে এখানে আছি। কন্ডিশন ও আবহাওয়া নিয়ে তাদের সাথে আমাদের নিয়মিত কথা হচ্ছে। আমাদের অভিজ্ঞতা এখানে বড় ভূমিকা পালন করবে।’ এই সময় উপমহাদেশ সফরে বাইরের কোন দল আসলেই তাদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায় শিশির। সংবাদ সম্মেলনে তাই ম্যাককালামকেও এই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হল, ‘আমাদের এদিকে (শিশির) খেয়াল রাখতে হবে। এখনও আমরা ঠিক জানি না রাতের দিকে কি পরিমাণ শিশির জমে। এই সময় উইকেট কিরকম আচরণ করে সেটার ব্যাপারেও আমাদের ধারণা নিতে হবে। কিন্তু, যতদূর মনে হচ্ছে, যেদলই টসে জিতুক না কেন ঝুঁকি এড়াতে তারা পরে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিবে। শিশিরের কারণে স্পিনাররাও সমস্যায় পড়তে পারে; কারণ, এসময় বল ভিজে যায়। তাই বাংলাদেশও পরে ব্যাট করতে চাইবে।’ গত পাঁচ বছরে ওয়ানডেতে দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে কোন দলই কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তাই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটই আশা করছেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, ‘প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট আশা করছি। ওয়ানডে দল হিসেবে আমরা যথেষ্ট ভাল, তাই আমরা সহজে বাংলাদেশের বিপক্ষে হার মানবো না। দলে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। টেস্টে আমরা এখনও উন্নয়নশীল অবস্থায় আছি। ওয়ানডেতে ব্যাপারটা ঠিক তেমন নয়। এই ফরম্যাটে আমাদের অনেক সাফল্য আছে। ওয়ানডেতে আমরা অনেক শক্ত দল। তাই এই সিরিজে ভাল খেলার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’ ওয়ানডে সিরিজে ভাল করার আশাবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রথম আজকের ম্যাচের স্কোয়াড সম্পর্কে কিছুটা ধারণাও দিলেন প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক, ‘হ্যামিশ রাদারফোর্ড ও অ্যান্টন ডেভচিচকে খুব সম্ভবত ওপেনিং করতে দেখা যাবে। দুজনের হাতেই ভাল স্ট্রোক আছে। (মার্টিন) গাপটিলের অভাব থাকলেও দলে (কেন) উইলিয়ামসন, (রস) টেলর, (গ্রান্ট) এলিয়টের মতো ব্যাটসম্যান আছেন। বোলিংয়ে কাইল মিলস, টিম সাউদি এর সাথে কোরি অ্যান্ডারসন, জেমস নিশাম, অ্যাডাম মিলনেরা আছেন। সব মিলিয়ে আমাদের দলটা অনেক ব্যালান্সড।’