ঠাকুরগাঁওয়ে ফুলে-ফলে ভরে গেছে পাম বাগান
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৭
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় কয়েকটি গ্রামে চাষিদের লাগানো পাম বাগান ফুল-ফলে ভরে গেছে। তিন বছর নিবিড় পরিচর্যার পর গাছে ফল এলেও এই ফল নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। ফল থেকে কিভাবে তেল পাবেন তা বুঝতে না পেরে অনেক চাষিই প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১২ দশমিক ৫৩ হেক্টর জমিতে পাম বাগান রয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ির আশপাশে ১৭ দশমিক ৫২ হেক্টর জমিতে রয়েছে পামের গাছ। ভাতগাঁও গ্রামের পামচাষি শরিফুল ইসলাম জানান, আব্দুল আউলিয়াপুর ইউনিয়নের তত্কালীন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পামগাছের চারা কিনেছিলেন। চারা সরবরাহের সময় তারা প্রচার করেছিলেন, ঘরে ঘরে পামগাছ লাগিয়ে তেলের পারিবারিক চাহিদা মেটানো যায়; বিক্রি করে বাড়তি আয়ও হয়। তিন থেকে চার বছর পর তা থেকে ৭৫ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়। একটি গাছ থেকে বছরে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তেল আহরণের পদ্ধতি সম্পর্কে বিক্রয় প্রতিনিধিরা সেসময় জানান, ফল আহরণ করে কিছুক্ষণ পানিতে সিদ্ধ করে চাপ দিলেই রস বের হবে। জ্বাল দিলেই অতিরিক্ত পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে। এরপর লাল রঙের যে তেল পাওয়া যাবে, তা পরিশোধন ছাড়াই রান্নায় ব্যবহার করা যাবে।
পামচাষি আব্দুল জব্বার বলেন, তিন বছর আগে ১৩০টি পামগাছের চারা কিনে লাগিয়েছি। পরিচর্যার পর গাছে ফল এলেও এখন তা কাজে আসছে না। প্রতিনিধির বলে দেয়া পদ্ধতিতে তেল বের করার চেষ্টা করেও ফল হয়নি। এই ফল নিয়ে এখন কি করবো তা বুঝে উঠতে পারছি না। তাই জমি ফেলে না রেখে বাগানে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছি। সাসলা পিয়ালা গ্রামের কয়েকজন চাষি পামের বাগান করেন। তারা সবুজ বাংলা এগ্রো লিমিটেডের স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি আবু হানিফার কাছ থেকে দেড় বছর আগে প্রতিটি চারা কিনে নেন। পামচাষি কলিমউদ্দিন বলেন, পরিচর্যার দায়িত্ব থাকলেও কোম্পানির লোকজন ভালোভাবে পরিচর্যা না করায় চারা লাগানোর এগারো মাস পর তাদের বাগানে যেতে মানা করে দিয়েছি। গাছে ফল এলে সেগুলো কি করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আবু হানিফা (গ্রামের বিক্রয় প্রতিনিধি) আমাকে বলেছে কোম্পানির লোকজন ফল নিয়ে যাবে। আবু হানিফার সঙ্গে যোগাযোগ করে সবুজ বাংলা এগ্রো লিমিটেডের যোগাযোগ ঠিকানা ও নম্বর চাওয়া হলে তিনি বলেন, ম্যানেজারের নম্বর পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.জাফরুল্লাহ জানান, তার ইউনিয়নে চাষিরা সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি পামের গাছ লাগিয়েছেন। তিনি নিজেও একটি বাগানে ১২৫টি পামের গাছ লাগিয়েছেন। জাফরুল্লাহ বলেন, পামবাগানে ফল আসার পর চাষিরা প্রায়ই আমার কাছে এসে হতাশার কথা জানান। বুঝে উঠতে পারছি না এই ফল নিয়ে কি করা যায়। এখন প্রতারণার আশঙ্কা করছি। চারা সরবরাহকারী আব্দুল রাজ্জাক বলেন, আমি পামচাষের উদ্যোক্তা বখতিয়ার এগ্রো লিমিটেডের মালিক ওসমান গণির কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে চাষি পর্যায়ে সরবরাহ করেছিলাম। চাষিরা বুঝছে না যে প্রথমদিকের পামফল থেকে তেল পাওয়া যাবে না। পামের সুফল পেতে আরও দুই-এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপ-পরিচালক মো. বেলায়েত হোসেন জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। পাম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।