পানির নিচে বাড়িঘর রাস্তাঘাট ফসলের মাঠ বিদ্যালয়

কপোতাক্ষের উপচেপড়া পানিতে তালায় গ্রামের পর গ্রাম ডুবে আছে। মানুষের হাতে কোনো কাজ নেই। কৃষক মাঠে যেতে পারছে না। ক্ষুদ্র দোকানিরা বসাতে পারছে না দোকান। ভ্যান চালক তার ভ্যানটি কোথাও ফেলে রেখে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। কর্মহীন অলস সময়ে কেউ ঘরের মজুদ খাবার শেষ করছে, কেউবা দিন চালাচ্ছে চড়া সুদের মহাজনী ঋণে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি পুরো জলাবদ্ধ হয়ে আছে। বাকিগুলো আংশিক জলাবদ্ধ। খলিলনগর ইউনিয়নের বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা প্রায় দু’মাস ধরে পানিতে ডুবে আছে। এর মধ্যে রয়েছে গঙ্গারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোষনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোষনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, তালা টেকনিক্যাল কলেজ, কপোতাক্ষ দাখিল মাদ্রাসা, অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয়, গোনালী বাজার, তালা-পাইকগাছা ১৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১১ কিলোমিটার, প্রধান সড়ক থেকে বাড়িঘরে প্রবেশের সব রাস্তা। জলাবদ্ধতার কবলে পড়া গ্রামগুলোর বাড়িঘর, ফসলি মাঠ, পুকুর, ডোবা, রাস্তাঘাট সবকিছুই পানির নিচে। মানুষের কষ্টের শেষ নেই। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই। পানির কারণে ঘরেও থাকা যাচ্ছে না। কার্তিকের শুরুতে শীতের আগমনী মুহূর্তে এখন যে জমিতে আমনের শীষ দোল খাওয়ার কথা, শীতকালীন সবজি বেড়ে ওঠার কথা-সেখানে থই থই করছে পানি। জলাবদ্ধ গঙ্গারামপুর ঘুরে দেখার সময় ছোট্ট চায়ের দোকানে দেখা মিলল ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন মানুষের। এদের একজন দিলীপ রায়। গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা। সংসারে মানুষ চারজন। জুয়েলারির ব্যবসা আছে। জলাবদ্ধ এলাকার বাসিন্দারাই তার ক্রেতা। জলাবদ্ধতার কারণে দোকান বন্ধ করে বাড়িতেই আছেন। জমির ফসল শেষ হয়ে গেছে। ধারদেনা করে চলছেন। দিন কাটছে অতি কষ্টে। কর্মহীন আরেকজন আসাদুল গাজী। বাড়ি গঙ্গারামপুর গ্রামে। কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখন বেকার বসে আছেন। খলিলনগর এলাকার বাসিন্দারা জানান, কপোতাক্ষ দিয়ে পানি সরতে না পারায় তাদের গ্রাম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। আর এর অন্যতম কারণ দখল। এই ইউনিয়নের নিকটবর্তী কপোতাক্ষ এক সময় প্রায় ৫০০ ফুট প্রশস্ত ছিল। এখন কমে ১৫ থেকে ২০ ফুটে দাঁড়িয়েছে। কপোতাক্ষের চর বেদখল হয়ে নদের প্রশস্ততা কমে গেছে। যার ফলে পানি সরতে পারে না। এর সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীরা। তাদের মধ্যে চরের জমি দখল নিয়ে লড়াই চলে, আর জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহায় সাধারণ মানুষ। খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু জানালেন, ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে প্রায় এক হাজার পরিবার।