দেশজুড়ে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হামলা, বোমাবাজি

হরতালের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার দেশজুড়ে পুলিশ ও হরতালবিরোধীদের সঙ্গে ১৮ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, হামলা পাল্টা হামলা ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি দলীয় এক সংসদ সদস্যসহ চার শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। স্কুলছাত্র, শিশু, পথচারী, ওসি ও নারীকর্মীসহ কমপক্ষে ২২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কার্যালয় এবং এম্বুল্যান্সসহ অসংখ্য যানবাহন ভাংচুর করা হয়। হরতাল চলাকালে যশোরে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও খুলনায় ককটেল ছুঁড়েছে হরতালকারীরা। নরসিংদী ডিসি অফিসে দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সৈয়দপুরে পিকেটাররা একটি যাত্রীবাহী অটোরিক্সায় আগুন দিলে দুই যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হন। লালমনিরহাটে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হলে ওই পথে প্রায় ১২ ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এদিকে ব্যাপক সংঘর্ষের পর সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে জয়পুরহাট পৌর শহর, সাতক্ষীরার কলারোয়া, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, বগুড়ার নন্দিগ্রাম ও গাবতলী উপজেলা, নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এবং টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। নরসিংদী :হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ১১টায় নরসিংদীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় লক্ষ্য করে পর পর দুইটি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এসময় বোমা দুইটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাখা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. কামাল হোসেনের গাড়ীতে (ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-০৭৪৯) লেগে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। রাজশাহী অফিস :জেলায় পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বিএনপি নেতা শফিকুল হক মিলনসহ ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। নগরীর তালাইমারী এলাকায় পিকেটারদের হাতে সময় টিভির ক্যামেরাম্যান আব্দুস সালাম প্রহূত হয়েছেন। পুঠিয়ার বেলপুকুর এলাকায় বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। মুন্সীগঞ্জ : জেলার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভোরে শহরের পিটিআইয়ের মোড়ে পিকেটাররা ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এর পরপরই জুবলী রোড ও সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ছাত্রাবাসের সামনে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সকালে মুক্তারপর নিপ্পন কোল্ড স্টোরেজের সামনে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। এসময় তারা ঢাকা-মুক্তারপুর সড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে রাস্তা আটকে দেয়। নারায়ণগঞ্জ :দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শামীম নামের একজনকে আটক করেছে। এদিকে রবিবার আড়াইহাজারে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৭২ জন নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো আড়াই’শ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। সৈয়দপুর (নীলফামারী) :সকালে সৈয়দপুরে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। এতে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। এরা হলেন শহরের ইসলামবাগ চিনি মসজিদ এলাকার হাসিনা বেগম (৫৫) ও রাবেয়া বেগম (৪৩)। তাদের স্থানীয় সৈয়দপুর ১শ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নীলফামারী : হরতালে অচল হয়ে পড়েছে গোটা নীলফামারী। হরতাল সমর্থকরা রামগঞ্জ ও মীরগঞ্জ সড়কের শত শত গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় ৪-৫টি মোটর সাইকেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হরতাল সমর্থকরা। সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) :উপজেলায় পুলিশের সাথে পিকেটারের সংঘর্ষে এডিশনাল এসপি ফরিদ উদ্দিনসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছে ২ মহিলা। পিকেটাররা বাস-ট্রাক ও মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে ৬টি দোকান। পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে। বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) : উপজেলা প্রশাসন আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে বাজার সংলগ্ন ১ কিলোমিটার এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) :১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় হরতাল সমর্থকরা অবরোধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উপ-পরিদর্শক (এসআই) রঞ্জন কুমারসহ ২০ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধ সোহেল, রাসেল, নবীউল্লাহ, মোহসিন, জুবায়ের, মহিউদ্দিন, আলম, রুবেল, মুন্না, নুরবক্স, সামসুল হক, ডাঃ রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় গতকাল উপজেলা প্রশাসন ভুলতা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। মেলান্দহ (জামালপুর) : সকালে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা আন্ত:নগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস মেলান্দহ রেলস্টেশনে পৌছলে হরতাল সমর্থকরা ট্রেনটি আটক রাখে। খুলনা অফিস :সকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে শিবির কর্মীরা একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে হরতাল সমর্থকরা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকলীগের অফিস ভাংচুর করে। পটিয়া (চট্টগ্রাম) :উপজেলার শান্তির হাট এলাকায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সংঘর্ষে পটিয়া থানার ওসিসহ ৭ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ ও ৩০ জন আহত হয়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৫ রাউন্ড গুলি ১৬ রাউন্ড টিয়ারশেল ব্যবহার করে। যশোর অফিস:শহরের চাঁচড়া মোড়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় হরতাল সমর্থকরা ৩টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও অন্তত ৫টি দোকান ভাংচুর করে। এদিকে সদর উপজেলার নতুনহাটে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়েছে হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির কর্মীরা। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জয়পুরহাট:শহরের পাচুরমোড়ে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফাসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আজিজুল হক লাল্টু নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারী করেছে জেলা প্রশাসন। সাতক্ষীরা :ভোমরা স্থল বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার কুলিয়াস্থ বাড়িতে হামলা চালিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। পরে আ’লীগ নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির স্থগিত কমিটির সভাপতি সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বাসভবনে হামলা চালায়। ঘটনার পর কলারোয়ার পৌরসভা এলাকায় সোমবার বেলা তিনটা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) :গৌরীপুর থেকে চট্টগ্রামগামী নাসিরাবাদ ৩৮ ডাউন ট্রেনে বোকাইনগর এলাকায় পিকেটাররা পাথর নিক্ষেপ করলে জানালা ভেঙ্গে চালক মোজাফফর হোসেন হাজারীসহ ১৫/১৬ জন যাত্রী আহত হন। শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ চলাকালে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়। ধামরাই (ঢাকা): ট্রাকে আগুন ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদসহ ৪৩ নেতাকর্মীর নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। বগুড়া:শহরের বনানীতে রোগীবাহী একটি এ্যাম্বুলেন্সে হামলা করে ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। এর পর পর জেলা জজ আদালত চত্বরে পর পর কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) :উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের তালুচ বাজারে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়েছে। চাটখিল (নোয়াখালী): জেলার চাটখিলে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের সাথে পুুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ডিবি পুলিশের এসআই আব্দুল কাদের, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এসআই মোশারফ, এসআই আতিকুর রহমান এবং থানার এসআই অমিত, কনস্টেবল আব্দুল মতিন আহত হন। এ সময় পুলিশের গুলিতে শিবির কর্মী হাসান, সবুজসহ ৪ জন, রাফি (৭) নামে এক পথচারী শিশু গুলিবিদ্ধ এবং শিবিরের ৭ কর্মী আহত হয়। পুলিশ হরতাল সমর্থক ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরশুরাম (ফেনী): সকালে শহরে ছাত্র শিবিরের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দিনাজপুর:পিকেটারদের হামলায় পুলিশের এক এসআই আহত হয়েছেন। পিকেটাররা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অ্যাম্বুলেন্স, ৩টি মোটর সাইকেল ও কয়েকটি রিকশা ভাংচুর করেছে। নেত্রকোনা: আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসটি বিএনপির নেতাকর্মীরা ভাংচুর করে। এসময় বাবুল নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী মারাত্মক আহত হন। এ খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তেলিগাতী বাজারের বিএনপি সমর্থিত কয়েকজনের দোকানপাটে হামলা চালায় এবং ভাংচুর করে। জেলা বিএনপি সম্পাদক আবু তাহের তালুকদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। কেন্দুয়ায় পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ৬০ জন বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ: শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল মাহমুদ খান্না’র কাঁঠালবাগিচার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। এ সময় তারা পেট্রোল দিয়ে একটি ফ্রিজে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া শহীদ সাটু হল মোড়ে জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক দুলাল উদ্দীনের উপর হামলা করেছে হরতালকারীরা। ২ শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারতীয় পণ্যভর্তি ট্রাক প্রবেশ করেনি। ফলে বন্দর অচল হয়ে পড়েছে। শরীয়তপুর: হরতালে পিকেটিং করার অভিযোগে পুলিশ আটক করেছে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম খায়েরকে জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গাজীপুর: হরতাল সমর্থকরা গাজীপুর রেল ক্রসিং এলাকায় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় তারা একটি লেগুনায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি ভাংচুর করে। শিববাড়ি মোড়ে বিএনপির মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে অন্তত ৮ জন আহত হয়। টঙ্গী :সকাল থেকে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাট ভাংচুর করে। এসময় জামায়াতের এক কর্মীকে আটক করে পুলিশ। নাজিরপুর (পিরোজপুর) :উপজেলা খেজুরতলা, বাবুরহাট ও রঘুনাথপুর আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। এ সময় ১১ নেতাকর্মীকে কুপিয়ে আহত করে তারা এছাড়া অফিসে থাকা শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে। বোরহানউদ্দিন ভোলা) :আ’লীগ-বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছে। হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) :১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কে লাঠি মিছিল করেছে হরতাল সমর্থকরা। পরে চাঁদপুর-লাকসাম রেল লাইনের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় আগুন দেয় তারা। এতে চাঁদপুরগামী লোকাল ট্রেনটি প্রায় আধা ঘন্টা আটকা পরে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া:হরতাল চলাকালে শহরে প্রকাশ্যে সশস্ত্র মিছিল করেছে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। মিছিলে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লগি, বৈঠাসহ আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অভিযোগ উঠেছে। আর সবকিছুই হয়েছে পুলিশের উপস্থিতিতে। আশুগঞ্জে পুলিশ বিএনপি সংঘর্ষে বিএনটি নেতা আবু আসিফ আহম্মেদসহ ১৫ জন আহত হয়। হোমনা (কুমিল্লা) :উপজেলার আকবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর বাজারে হরতালের সমর্থনে বিএনপির মিছিলে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল কর্মীর নাম মোঃ সাইফুল ইসলাম। গোপালপুর (টাঙ্গাইল) : পৌর শহরের মুদিখানা মোড়ে পিকেটিংয়ে বাধা দেয়ায় বিএনপি কর্মীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে পিকআপ ভ্যান ভাংচুর করে। পিকেটারদের হামলায় ওসি (তদন্ত) সোহরাব হোসেন, দারোগা দেওয়ান ইব্রাহিম, কনস্টেবল মোনায়েম ও এনামুল আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। বেড়া (পাবনা) : পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছে। গাইবান্ধা : জেলার পলাশবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গোবিন্দগঞ্জের নাকাই ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্র ও কামদিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ অফিসসহ ৭টি দোকান ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জে জামায়াতের এক কর্মীকে ককটেলসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরগুনা (উত্তর) : জেলার আমতলী, তালতলী, বগী বাজার ও কাকচিড়া বাজারে আওয়ামী লীগের সাথে হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষে ৩৯ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ১১টি মোটরসাইকেলে। সাঈদীর মামলার বাদীর বাড়িতে হামলা ভাংচুর পিরোজপুর অফিস :হরতালের দ্বিতীয় দিন পিরোজপুর শহর ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। ভোরে পুলিশ বাবু (২২) নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে ছোরাসহ গ্রেফতার করে। হরতালকারীরা শহরতলীর ভাইজোড়ায় আওয়ামী লীগ অফিসের আসবাবপত্রে আগুন দেয় ও কদমতলায় বেইলী ব্রীজের ছাউনি খুলে ফেলে। এদিকে সকালে জিয়ানগরে টেংরাখালীতে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহাবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়িতে জামায়াত-শিবির কর্মীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। মাহবুব ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম মামলার বাদী ও মূল মামলার সাক্ষী। মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী মামলার সাক্ষীদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের জন্য স্থানীয় পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জিয়ানগরে হরতালের সময় হামলা-পাল্টা হামলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ২৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাড়েরহাটের কালিবাড়ীতে হরতাল সমর্থকরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলম (৪০), যুবলীগ নেতা টিপু (৩০) ও ছাত্রলীগ কর্মী রাজনকে (১৮) কুপিয়ে আহত করে। পরে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা কালিবাড়ী বাজারের বিএনপি সমর্থকদের আটটি দোকান ভাংচুর করে। বগুড়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ১৪৪ ধারা বগুড়া :জেলার নন্দীগ্রামে হরতালের সমর্থনে মিছিল করা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশংকায় স্থানীয় প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এর আগে রবিবার জেলার একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গাবতলীতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন । লালমনিরহাট :রবিবার রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে শান্তাহার থেকে বুড়িমারীগামী একটি ট্রেন লাইনের ফিসপ্লেট খুলে দেয়ায় মহেন্দ্রনগর স্টেশনের নিকট দুর্ঘটনায় পড়ে। ট্রেনটির ইঞ্জিন ও যাত্রীবাহী বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ড্রাইভারসহ কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। ঐ লাইনে প্রায় ১২ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। শিবগঞ্জ :উপজেলার পদ্মা সিনেমা হল এলাকায় গতকাল সন্ধ্যায় সুইট নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার চক দৌলতপুর গ্রামের সেতাউর রহমান আতুর ছেলে।