হরতালে চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহন বন্ধ
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৯
হরতালে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র খাতুনগঞ্জ। বৈরী আবহাওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বেচা-কেনায় মন্দা যাচ্ছে। পরিবহন সংকটে বিক্রীত পণ্যও গুদামে পড়ে আছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে সকল পণ্যের দাম। নগরীর কাঁচা বাজারগুলোতে দাম চড়া। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, হরতালে পণ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। পণ্য পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো কোন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।
ঈদ-পূজার বড় বন্ধের পর ব্যবসা বাণিজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে না আসতেই হরতালের কবলে পড়েছে দেশ। এতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজারে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রবিবার খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, হরতালের কারণে ব্যবসায়ীরা দোকানের আংশিক খুলে রেখেছে। তবে বেচা-কেনা একেবারেই কম। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো খোলা থাকলেও পণ্য বেচা-কেনা না হওয়ায় লেনদেন হচ্ছে না। ব্যবসায়ীসহ পণ্য সরবরাহে নিয়োজিত শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন সংকটে বিক্রীত পণ্য ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে না। পণ্য বিক্রি হলেও গুদামে পড়ে আছে। ভোজ্যতেল, মসুর, ছোলা, চিনি, খেসারি, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, মসলা জাতীয় পণ্য, আটা, ময়দা, চালসহ সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। খাতুনগঞ্জে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন কয়েকশ কোটি টাকার পণ্য বেচা-কেনা হয়ে থাকে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন, হরতালের কারণে পণ্য সরবরাহ কমে গেছে। ফলে প্রতিটি পণ্যের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। জনতা ট্রেডার্সের ম্যানেজার জুয়েল রানা জানান, পাইকারি দর কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেড়েছে। হরতালে পণ্য আনা যাচ্ছে না। পিঁয়াজ কেজি ৮৭/৮৮ টাকা, আদা ১৩০ টাকা ও রসুন ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে পণ্য আসতে দেখা গেছে। খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই পাইকারি বাজার নৌপথে প্রচুর পণ্য সরবরাহ পেয়ে থাকে। তবে বিক্রীত পণ্যের ৮০ শতাংশ সরবরাহ হয় সড়ক পথে।
হরতালে চালের বাজারেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দাম বেড়েছে সিদ্ধ ও আতপসহ সকল ধরনের চালের। পাহাড়তলী বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন গতকাল ইত্তেফাককে জানান, হরতালের কারণে উত্তরাঞ্চলের পাইকারি বাজার থেকে চাল আনা যাচ্ছে না। এতে প্রতি বস্তার (৫০ কেজি) দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে।
এদিকে পণ্য পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে ভাড়া নিচ্ছে না। সড়কে নিরাপত্তাহীনতায় তারা ঝুঁকি নিতে নারাজ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড, মীরসরাই ও কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম এলাকায় হরতালের সময় পণ্যবাহী যানবাহন ব্যাপক হামলার শিকার হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মদ ইত্তেফাককে বলেন, হরতালে নতুন করে ভাড়া নেয়া হচ্ছে না। আগের অর্ডার নেয়া পণ্য ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে না। চালকরা যানবাহন চালাতে অনীহা দেখাচ্ছে। এতে পরিবহন সংকট বেড়েছে। পুলিশ মহাসড়কে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। পণ্যবাহী গাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে।