আমরা কেন ফোন করব, সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৯
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি শেষে যে কোনো সময় যে কোন স্থানে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াও গণভবনে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। তবে এজন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে, বিরোধী দল কেন সরকারকে ফোন করতে যাবে! তিনদিনের হরতাল কর্মসূচির গতকাল সোমবার দ্বিতীয়দিনে বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যত মানুষ মারা গেছেন, প্রতিটি হত্যার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের। এসব হত্যার নিন্দা জানিয়ে তিনি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
ফখরুল বলেন, হরতাল শেষে যদি সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা না হয়, এমনকি উদ্যোগ নিতে যদি একদিনও দেরি করা হয়-তাহলে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে সরকারের কোনো সদিচ্ছা নেই। অর্থাত্ সরকার সংলাপ চায় না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার থেকে বিরোধী দল সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়, সরকারি দল আমাদের হরতালকে একটি ছুতা হিসেবে দেখাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, একটি কার্যকর সংলাপের জন্য শুধু প্রধানমন্ত্রীর একটি টেলিফোনই যথেষ্ঠ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেষ মুহূর্তে ফোন করায় আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও ছিল না। কার্যকর সংলাপের জন্য পরিবেশ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী যখন ফোন করলেন, তখন বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছিল না, কোথাও মিছিল করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সংলাপের জন্য সরকারের সদিচ্ছা আছে বলে মনে করিনি।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, আমরা সংলাপ ও সমঝোতা চাই। সে কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ফোনে বিরোধী দলীয় নেতাকে বললেন, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন, সেটিরই ধারাবাহিকতায় বিএনপিকেও তিনি আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে মূল দাবি-নির্দলীয় সরকার সম্পর্কে কিছু বলেননি। তাহলে তাদের এই রাজনীতি নিয়ে আমাদের কী বলার আছে!
আপনারা তো বলছেন-এ সরকার ‘অবৈধ’, তাহলে সংলাপ করবেন কীভাবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক ভাষায় অনেক কথাই বলি। তাহলে আমরা সংলাপ কার সঙ্গে করবো? যে সরকারে থাকবে তার সঙ্গেই হবে।’
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এটা সরকারের একদলীয় নির্বাচনের নীলনকশারই একটি অংশ। আমরা আগেই বলেছি-বর্তমান নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন।
প্রশ্নোত্তরের আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সরকারের লোকজনই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশিষ্টজনদের বাড়িতে বোমাবাজি করছে। ১৮ দলের নির্দলীয় সরকারের দাবিকে নস্যাত্ করতে সরকার আমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। জনদৃষ্টি ঝাপসা করতে সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তবে সত্য একদিন উদ্ভাসিত হবেই। একটি পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বোমাবাজির ঘটনায় রবিবার রাজধানীর গুলশান থানায় যাদের আটক করা হয়েছে তারা সবাই যুবলীগ কর্মী। সুতরাং এসব ঘটনার জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করা হাস্যকর।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহিন, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।