জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আট বছর পেরিয়ে

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রবিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা এবং বেলুন ও পায়রা উড়ানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুরু হয়। উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় একাডেমিক ভবনের নিচতলায় দেশের বরেণ্য শিল্পীদের আঁকা চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংসদ’ কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্র প্রদর্শন করা হয়। মঙ্গলবার শহীদ মিনার চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। সুসজ্জিত শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার থেকে ক্যাম্পাস ঘুরে রায় সাহেব বাজার ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। বেলা ১১টায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর ওই বছরের ২০ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তত্কালীন জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে। সেই থেকে ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির বয়স আট বছর পেরিয়ে নয়ে পড়ল। তবে জগন্নাথ কলেজের রয়েছে ১৫০ বছরের গৌরবময় ইতিহাস। টাঙ্গাইলের বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল চৌধুরী ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জগন্নাথ কলেজ। তার বাবা জমিদার জগন্নাথ চৌধুরীর নামানুসারে নামকরণ করা হয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে এটি ছিল তত্কালীন পূর্ব বাংলার মানুষের উচ্চশিক্ষার একমাত্র সম্বল। ১৯৬৮ সালে কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয়। ১৯৭৫ সালে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জগন্নাথ কলেজকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন ও অর্জনের ইতিহাসে এ প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। ভাষা শহীদ আব্দুর রফিক, সাহিত্যিক আনিসুজ্জামান, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এটিএম শামসুজ্জামান, সংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর ছাড়াও অসংখ্য গুণী মানুষ এ প্রতিষ্ঠান থেকেই উঠে এসেছেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, অজিত কুমার গুহ, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, হায়াত মামুদসহ অনেক গুণীজন শিক্ষকতা করেছেন এখানে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রতিষ্ঠানটির পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। ক্যাম্পাস গেটের পাশেই নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ২০তলা একাডেমিক ভবন। ভবনের ৭ম তলার নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রজেক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষকদের আবাসনের ব্যবস্থার কাজ প্রক্রিয়াধীন। শতবর্ষী প্রশাসনিক ভবন বয়সের ভার ছাপিয়ে তারুণ্য নিয়ে গৌরবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের পাশে রয়েছে নান্দনিক ও ব্যতিক্রমধর্মী শহিদ মিনার। এছাড়াও ক্যাম্পাসের অবস্থিত ‘একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’ ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের একমাত্র গুচ্ছ ভাস্কর্য। পড়াশোনা চলছে বিশ্বমান ও বিশ্বরীতি মেনে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি বিভাগে পাঠদান চলে আসছে সেমিস্টার পদ্ধতিতে। ধারণাটি বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নতুন। আন্তর্জাতিক মানের সিলেবাস পড়াশোনার মানকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজীব মীর বলেন, ‘কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-এই সময়টা তার বয়ো:সন্ধিকাল। এ সময় সঠিক পরিচর্যা না পেলে ভবিষ্যত্ ভালো হবে না। দরকার উপযুক্ত অবকাঠামো আর যথেষ্ট রিসোর্সফুল শিক্ষক, তাদের পাঠদান ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা, হল, ডাইনিং, পাঠাগার, পরিবহন আর নিয়মিত ক্লাস-এসব বিশ্ববিদ্যালয়টির ভবিষ্যত্ ঠিক করে দেবে। সবচেয়ে জরুরি হলো লিডারশীপ ক্রাইসিস। যেটার এতোদিন খুব সংকট পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান এই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন। তিনি অত্যন্ত ডায়নামিক। সুচিন্তিতভাবে তিনি ছাত্রদের হল, পরিবহন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়ো:সন্ধিকালের পুষ্টির দিকে ভালো নজর দিচ্ছেন। এটাই আশার কথা।’