চলে গেলেন সংগীতের ঈশ্বর মান্না দে
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৪১
আমি তাকে সংগীতের ঈশ্বরই বলব। কারণ, এত দরদ দিয়ে এতগুলো অসাধারণ গান গেয়ে শ্রোতাদের বিস্মিত করা কোনো সাধারণ শিল্পীর কাজ নয়। একমাত্র তিনিই পারতেন। তিনি হলেন মান্না দে। শুধুমাত্র মান্না দে’র গান শুনে শুনেই আমার সংগীতজগতে পদার্পণ। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মান্না দে’র গানগুলো গেয়ে শ্রোতাদের খুব প্রশংসা পেতাম। সেই সাথে পেয়েছি আরও ভালো করে গান করার উত্সাহ। সবাই প্রশংসা করে বলতেন মান্না দে’র গানগুলো নাকি আমি অবিকল তারই মতো করে গাই। পরে যখন ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে সংগীতে পড়াশোর জন্য যাই দিল্লিতে এবং পরে দিল্লির গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করি, সেখানে অসংখ্যবার মান্না দে’র সঙ্গে দেখা হয়েছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা হয়েছে। অনেক অনুষ্ঠানের আগে রিহার্সেল রুমে মান্না দা’ কতবার আমার মুখে তার গাওয়া গানগুলো শুনে আমাকে বুকে জড়িয়ে মাথায় আশীর্বাদের হাত রেখেছিলেন। কত গান আমাকে তুলে দিয়েছেন ফাঁকে ফাঁকে। তার স্ত্রী সুলোচনা দে’ও আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন। দিল্লির দূরদর্শন চ্যানেলে মান্না দে’র আর্কাইভ রেকর্ডিংয়ে আমি তার সঙ্গে ছিলাম। এরপরে হিন্দিতে মান্না দে’র আত্মজীবনী ‘ইয়াদ জী উঠি’ প্রকাশিত হয় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে। সেই বইয়ের প্রকাশনা উত্সব হয় ‘দেহ্রাদুনে’ যাতে গাওয়ার কথা ছিল মান্না দে’র। কিন্তু অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগে মান্না দে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমি কোনোদিনই ভাবিনি সেই অনুষ্ঠানে তার জায়গায় গান করার জন্য স্বয়ং মান্না দে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কাছে আমার নামটি বলবেন। আমার গানের প্রতি তার সেই বিশ্বাসই হয়তো আমাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে এসেছে। এর চেয়ে জীবনে বড় কিছু পাওয়ার নেই। সেদিন আমি নিজে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে কী করে গেয়ে দর্শকশ্রোতাদের মন জয় করতে পেরেছিলাম জানি না। সেটা সম্ভব হয়েছিল মান্না দে’র বিশ্বাসের জন্যই। সেই বিশ্বাস জীবনের শেষ পর্যন্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করব। মান্না দা’কে নিয়ে সেই সব স্মৃতিভার নিয়েই এখন বেঁচে থাকতে হবে সারাজীবন। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।